রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ইস্তেহার সহযোগে সাহিত্যনামার বাসনা/কামনা অনেকদিন থেকেই চলছে, সেটা শুধু দাদাবাদ বা গাণ্ডীব-এর ইস্তেহার নয়, এটি একটা মনসংযোগের ব্যবস্থাপনা। এই যেমন অগ্রবীজ’র প্রতিটি সংখ্যায় একটা করে ইস্তেহার জাতীয় কিছু নেয়ার প্রক্রিয়ায় তারা থাকেন। এখন যে সংখ্যাটি আমার হাতে, ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যা, এতেও ইস্তেহার জাতীয় ঘোষণার ব্যাপার আছে। আমরা এখানে নানান জাতের বাংলাকে দেখে, বাঙালিকে পরখ করেছে; ভাষাজনিত মীমাংসায় তারা এভাবে হয়ত আসতে চায়। তাই তারা নানাজনের কথা শুনছেন। সেই কথাতে বরাক এলাকা, অহমিয়া, বর্হিবাংলা, পশ্চিমবাংলা যেমন আছে, বাংলাদেশের বাংলা আছে আরও বেশি করে। এখন এ প্রশ্ন করা যায়- বাংলাদেশের সুর্নিদিষ্ট বাংলা ভাষা আবার আছে নাকি? সেটা না থাকলেও একটা মেজাজ কিন্তু অগ্রবীজ কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করতে চাইছেন। তাদের সেই যাওয়াতে শেষতক কোনো সিদ্ধান্তে আসা না গেলেও তারা সেটা করতে চেয়েছেন। অন্তত এ কর্মযজ্ঞে তারা গণতান্ত্রিক থাকতে পেরেছেন। তারা যে সম্পাদকীয় উৎপন্ন করেছেন তাতে সর্বজনীন একটা আদল পেয়েছে। সর্বজনীনতা ভাষার ক্ষেত্রে বা সাহিত্যের মানদণ্ড নির্ণয়ে প্রয়োজন কিনা সেটা ভিন্ন বিতর্ক। তবে এ বিতর্ক না করে উপায় নাই। কারণ আমরা তো এই কথা বলে তো বসে থাকতে পারি না যে যার কেউ নেয় তার আল্লাহ আছে। কারণ কেউ না কেউ কোথাও না কোথাও থাকে।

আমার যেটা মনে হয়েছে তারা সাহিত্যের এই কাগজটি যেন প্রকাশই করেছে একটা কার্যকর সম্পাদকীয় লেখার জন্য। তবে সেটা কদ্দূর কার্যকর তা হলফ করে বলা মুশকিল। তারা এ কাজটির জন্য সারাবিশ্বের বাংলা সাহিত্যের আনাচে-কানাচে গিয়েছেন। কেউ অন্তত বলতে পারবে না যে দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া। পাঠককে তারা সৃজনশীল মনে করছেন, এটা বলা যায়। যার জন্যই সম্পাদকীয়র ভিতর দিয়ে তারা অন্ত কিছু একটা চাপিয়ে দেননি।

তারা অগ্রবীজ’র কাজটি অতি নিপুণভাবে করার জন্য সরেজমিনে কাজ করেছেন। নানা জায়গায় সরাসরি না হলেও কিছু জায়গায় গেছেন। ফরহাদ মজহার আর নবারুণ ভট্টাচার্যের শরণাপন্ন হয়েছেন তাদের কথকতা যোগাড় করেছেন। তাদের এই কার্যক্রমে আমারও কিঞ্চিত ভাগ থাকায় নিজেকে খানিক উত্তপ্তও মনে করছি। তারা যে অগ্রবীজ’র কাজে ঘুরেছেন তা সম্পাদকীয়তে বলেওছেন। তারই সূত্র ধরে তাদের সাথে মোলাকাতের কথাটি সেরে নিই। তখন তারা, সৌম্য দাশগুপ্ত, গৌতম চৌধুরী, জয়দেব বসু, ব্রাত্য বসু চট্টগ্রামের শিল্পকলায় এক সাহিত্য-আসর করেন। আমরা তাতে যোগ দিই। অগ্রবীজ নিয়েই তারা কথাবার্তা বলেন। জয়দেব বসুর কাব্যপ্রতিভায় আমরা মুগ্ধ যেমন হই, গৌতম চৌধুরীর পূর্ববঙ্গীয় ভাষার কাব্যচর্চায় যুগপত বিস্ময় আর অসহায় বোধ করি। তার এমন কাব্য-আচরণের কারণ কি? একি তার সাধনা নাকি একধরনের কৌশল? কবি-গল্পকার বিশ্বজিৎ চৌধুরী যেন আমাদের সমন্বিত স্বরকেই প্রতিধ্বনিত করেন মাত্র, দাদা, কবিতাটি কি বাংলাদেশে এসে লিখেছেন বা আসবেন বলে লিখেছেন (কারণ একথাটা আমরা অনবরতই টের পাই যে কলকাতার কেউ কেউ নিজেদেরকে দ্বৈত সংস্করণে নিয়োজিত রাখেন, তারা বাংলাদেশে এলে যা বলেন, কলকাতায় তা বেমালুম ভুলে যান বা চেপে যান; আবার কলকাতায় যা বলেন বাংলাদেশে আর তা উচ্চারণ করেন না।!) ?! তিনি না-বোধক উত্তর দেন। তার মানে এটা তার সাধনা বলা যায়? তিনি জসিমউদ্দীন, ফরহাদ মজহারের ব্যাপারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। আমরা তাতে আরও বিস্মিত হতে থাকি। পরবর্তীসময় ফরহাদ মজহার কর্তৃক ইসলামি জঙ্গীবাদকে সাপোর্ট করার কথা বলি, তার কাজের রহস্যময়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলি। যাই হোক, সাহিত্য-আসরের পর আমরা সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আলম খোরশেদ প্রযোজিত এক ঘরোয়া পানালাপে মত্ত হই। আমরা ওইসময় অগ্রবীজ নিয়েও কথা বলছিলাম।  সেখানেই ব্রাত্য বসুর তৃণমূল কংগ্রেসের সা¤প্রদায়িক রাজনীতির প্রতি কমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলি। জয়দেব বসুকে যেন কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই, তারা কেন একসময়ের বান্ধব চারু মজুমদারের লোকদের নিপীড়ন-নির্যাতন করছে, তা জানতে চাই। তখনও সিপিএম’র কর্তৃত্বাধীন বামজোটের ভরাডুবির কাল আসেনি। যাই হোক, তা নিয়ে অন্যত্র বিস্তৃত আলাপন হতে পারে।

আবারও সম্পাদকীয়তেই ফিরে আসি। তারা যে কাজটা করছে, যা আমার কাছে কিছুটা নবীন ধাঁচের কাজও মনে হয়, তারা বাংলাকে আন্তর্জাতিক একটা চেহারা দিতে চাই? তা যে চায়, তা কিন্তু অগ্রবীজ’র একেবারে প্রথম সংখ্যা থেকেই প্রকাশিত, প্রযোজিত এবং পরিবেশিতও। একটা ভাষা নানা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকলে একে আন্তর্জাতিক বলার স্কোপ তৈরি হয়? বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, অসমিয়া, বরাক, ইউরোপ-আমেরিকা-কানাডা ও পৃথিবীর অপরাপর দেশে তো বাংলা চর্চা হচ্ছেই। তাহলে বাংলা কি আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা পাবে? আমার তো মনে হয় বাংলা মূলত মাতৃভাষার পর্যায়েই আছে। আমরা যখন মাতৃভাষার কথা বলি, তখন এই স্থলে আমরা খানিক হতবিহŸলও হই। কারণ এখানে ভাষা নিয়ে অত কথা বললেও মাতৃভাষার মৌলিকতা নিয়ে খুব বেশি বলা হয়নি। অপরদিকে বলাও হয়েছে বলা যায়। কিন্তু আমরা অতৃপ্তিতে ভুগি, কারণ নানাজন ভাষা নিয়ে নানা কথা বললেও বাংলাভাষার একেবারে নিঃশ্বাস ঘেষে দাঁড়িয়ে থাকা আর সব ভাষার কথা বলি না। কেন বলি না? বাংলা তাদের মুখের ভাষা নয় বলে! তারা বাঙালি মুসলমান হওয়ার গৌরব অর্জন করতে না-পারাটাই বোধ করি তাদের অপরাধ। আমাদের রাষ্ট্রভাষা বাংলা, বাঙালিসূত্রে আমরা বাংলাভাষার রাষ্ট্রীয় সব মজাই নিতে জানি, আমরা ভাষা নিয়ে ডাট মারতে পারি, কারণ আমরা বাঙালি মুসলমান হওয়ার গৌরব অর্জন করতে আছি। রাষ্ট্র আমাদের বাহাদুর বানিয়েছে। সেই বাহাদুরি পেয়ে আমরা ভুলে গেছি, বা ভুলে যেতে আছি যে একজন মুরং, মার্মা, রাখাইন বা তঞ্চাঙ্গা বাঙালি মুসলমানের চেয়ে একরতিও কম হেডামধারী নয়। অথচ এখানে বৃহৎ বঙ্গ, বাঙালি মুসলমান, গৌরবের জাতি ইত্যাদি বললেও আমরা জাতি আর ভাষা সহযোগে কতভাবে অন্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর গোয়া মেরে রক্তাক্ত করছি, তা কিন্তু স্মরণও করি না। বাংলাদেশের বাঙালির বড়ো মজা হচ্ছে, তারা ইতিহাস ভুলতে চাইছে। যে প্রক্রিয়ার ভিতর তাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাস গড়ে উঠেছে তাকেই ভুলে থাকার সাধনায় আছে বোধ করি। ৪৭-এ এই জনপদের মানুষ মুসলমান হওয়ার জন্য পাকিস্তান চায়নি। কলকাতার ধর্মীয় এলিটিজম থেকে তারা যেমন মুক্তি চাইছিল, তেমনি ইংরেজদের কলোনিয়াল পেষণ থেকে বের হতে চাইল। কিন্তুপাকিস্তানে তারা অচিরেই আবিষ্কার করে ফেলল যে পাকিস্তানিরা ধর্মের দোহাই দিয়ে এদেশকে শোষণ করছে, পূর্ব পাকিস্তান কার্যত পাঞ্জবিদের কলোনি হয়ে গেছে। ভাষা আন্দোলনের ভিতর দিয়ে বাঙালি মুসলমানরা প্রকৃত গৃহে ফেরার বাসনা করল। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ভিতর দিয়ে তারা অনেকটাই সফলও হলো। মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে যে বাঙালিত্ব তারা আয় করল তাতে জাত-পরিচয় আর নয়, মানুষ হিসাবে তারা সার্বিক মুক্তি চাইল। সবরকমের বন্ধন থেকে তারা মুক্ত হতে চাইল। তখন মুসলমানিত্ব জাহির বা এর সঙ্কট নিয়ে তারা ভাবেনি। বরং এদেশিয় রাজাকার-দালাললা উপসনালয়ে তাদের ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা চালু রাখার বুদ্ধি করতে চাইল। কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে উপসনালয়ের ধর্মচর্চাকে প্রমোটই করল। ফলে ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতার অপবীজ আবার দানা বাঁধতে লাগল। একসময় তা রাষ্ট্রীয় নানান আনূকুল্যে বাড়তে থাকল। সামরিক শাসন স্বভাবতই ধর্মকে দোসর করতে থাকে। ধর্মের নামে রাজনৈতিক সংগঠন করার প্রকাশ্য অনুমোদন পেল। অনেকেই বলেন, স্বাধীনতার পর বাঙালি জাতীয়তাবাদ আর পাঁচটি বছর শাসনে থাকলে এর ভিতর থেকেই মুসলিম জাতীয়তাবাদ অটোমেটিক জন্ম নিত ইনশাল্লা! আর এখন তো নানাজন বুদ্ধিজীবীতার নামে বাঙালি মুসলমানকে এদেশের মূল কাণ্ডারি করার কৌশল খুঁজতে আছে। সেই প্রমাণ অগ্রবীজ-এও আছে।

এখন প্রশ্ন করা যেতে পারে, আমরা তো বাঙালির ভাষাভাষি নিয়ে আহাজারি করছি, এখানে প্রসঙ্গহীন প্রসঙ্গ তোলার মানে কি? কথা খানিক সত্য হলেও হতে পারে। কিন্তু একটা রাষ্ট্রের জাতিগত বাঙালিয়ানা নিয়ে, তার আধিপত্য নিয়ে জেগে উঠা নিয়ে কথা বললে অন্যদের কথাও আসবে। নবারুণ ভট্টাচার্য আর জয়দেব বসু ব্যতীত আর কেউ বিষয়টির তেমন আমলে আনাও প্রয়োজন মনে করেছেন বলে মনে করা মুশকিল।

অগ্রবীজ-এ সবার কথাই শুনতে চাওয়ার বাসনা আছে। এমনকি জয়দেব বসু তার প্রবন্ধে ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। এখানে সলিমুল্লাহ খান বা মাহবুব মোর্শেদের কথা যেমন আছে, রায়হান রাইনের কথাও আছে। ফরহাদ মজহার যেমন বাঙালির ভাব নির্ণয় করতে চেয়েছেন, বাঙালি মুসলমানের মুক্তির জন্য নানান পথ বাৎলে দিয়েছেন, তেমনি বাঙালির ভাব নির্ণয় করার জন্য লালন আর চৈতন্য মহাপ্রভুর মিলিত ভাবতরঙ্গ স্পর্শ করতে চেয়েছেন, তেমনি নবারুণ ভট্টচার্যের জনতার ভাষার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশিত হয়েছে। জয়দেব বসুর মতো বাম-প্রগতিশীল যেমন তাদের বন্ধু তেমনি বিজিপির দোসর ব্রাত্য বসুর কথাও প্রাণা লাগিয়ে শুনেন। কথা তো সত্যি, সবার কথা না শুনলে একটা সিদ্ধান্তে আসা যাবে কি করে। কিন্তু গণ্ডগোলটা তখনই হয় যখন কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার পথ খোঁজা হয় বা জানানো হয়। যেমন, এ সম্পাদকীয়তে জানানো হচ্ছে, ‘বাংলাদেশে যখন ঢাকায় ব্যবহুত ক্রিয়াপদের বহুল চল উঠে আসছে, তখন বাংলাদেশের ফরিদ কবির তার মত জানাচ্ছেন তথাকথিত ব্যাকরণশুদ্ধ প্রমিতভাষার সপক্ষে…’ তো এমন একটা সিদ্ধান্ত এ সংখ্যার সম্পাদক সৌম্য দাশগুপ্ত কী করে জানালেন! বাংলাদেশের সাহিত্যে ক্রিয়াপদের প্রয়োগ তো দুই-চারজন ঠিক করে দেন না। তা-ছাড়া দুই-চারজন মিলে তো বাংলাভাষার চর্চাকারীও হন না! তাহলে তাঁর কর্তৃক এত ব্যাপক এক সিদ্ধান্তের হেতু কি? ব্লগায়ন নিয়েও এখানে কিছু কথা বলা আছে। রণজিৎ দাশ আর সাজ্জাদ শরিফ সম্পাদিত বাংলাদেশের কবিতা, ভাষাবিতর্ক বিষয়ে কিছু কথাবার্তা উলে­খ করা হয়েছে এখানে। রণজিৎ দাশ যে এ কাজে অনেকটা দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন তা যেমন উলে­খ করেছেন সাজ্জাদ শরিফ কর্তৃক কবিতা বাছাই নিয়েও ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে। বিশেতষত মুজিব মেহদীর তৎসংক্রান্ত মতামত নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

তা-ছাড়া অগ্রবীজ যেভাবে প্রায় সব-মহলের কথা শোনার প্রযোজনা রেখেছেন তাতে একে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্তাবধায়ক টাইপের জগাখিচুড়ি একটা ব্যবস্থা হতে পারে, সমন্বিত সিদ্ধান্তহীন এ ব্যবস্থায় কার্যকর কিছু হবে বলে মনে করা মুশকিল। কথা সবারই শুনতে হবেÑঠিকাছে, কিন্তু এর জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম নিরন্তর চালু রাখলে সেটা বড়োজোর একটা পোস্টঅফিস হবে, নান্দনিকতার বিশুদ্ধ চারণভূমি হবে কিনা তা ভেবে দেখার আছে।

১১.১.২০১২

মন্তব্য, এখানে...
Share.

জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার জ্ঞানপুর গ্রামে, মামাবাড়িতে ১৯৬৩ সালে। সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে উজ্জীবিত বাজিতপুর এবং নাটকপাগল গ্রাম সরিষাপুরে জন্মগ্রহণের সুবাদে ছোটবেলাতেই সাংস্কৃতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়। স্কুল-কলেজের ওয়াল ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়। তার ধারাবাহিকতা ছিল মেডিকেল কলেজেও। ২য় বর্ষে পড়াকালিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাহিত্য বিভাগ থেকে স্বরচিত গল্পে ৩য় স্থান অধিকার করেন। এটিই খুব সম্ভবত কোন সাহিত্য রচনার জন্য প্রথম স্বীকৃতি লাভ। প্রথম গল্প প্রকাশ হয় ১৯৯৮ সালে মুক্তকন্ঠ-এ। প্রকাশিত গল্পের নাম ‘জলে ভাসে দ্রৌপদী। পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে ৫টি গল্পগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, ৪টি গদ্য/প্রবন্ধ গ্রন্থ এবং ১টি সংকলিত সাক্ষাৎকার। তাঁর প্রকাশিত বই: মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, জাগৃতি প্রকাশনী)। পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০০৬, মাওলা ব্রাদার্স)। স্বপ্নবাজি (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ)। কতিপয় নিম্নবর্গীয় গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রæয়ারি ২০১১, শুদ্ধস্বর)। উপন্যাসের বিনির্মাণ, উপন্যাসের জাদু (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১১, জোনাকী)। যখন তারা যুদ্ধে (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, জোনাকী)। গল্পের গল্প (গদ্য/প্রবন্ধ, একুশে বইমেলা ২০১৩, জোনাকী)। কথাশিল্পের জল-হাওয়া (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, শুদ্ধস্বর)। ভালোবাসা সনে আলাদা সত্য রচিত হয় (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, জোনাকী)। দেশবাড়ি: শাহবাগ (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, শুদ্ধস্বর)। কথা’র কথা (সংকলিত সাক্ষাৎকার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, আগামী)। জয়বাংলা ও অন্যান্য গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, জোনাকী)। কমলনামা (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বেঙ্গল)। হৃদমাজার (উপন্যাস, ডিসেম্বর ২০১৫, অনুপ্রাণন প্রকাশন), খুন বর্ণের ওম (উপন্যাস, ফেব্রæয়ারি ২০১৮, ঘোড়াউত্রা প্রকাশন)। সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘কথা’ প্রকাশিত সংখ্যা ৯টি (২০০৪-২০১৪)। ২০১১ সালে ‘কথা’ লিটল ম্যাগাজিন ‘শ্রেষ্ঠ লিটল ম্যাগাজিন প্রাঙ্গণ’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি (মরণোত্তর)।

Leave A Reply