রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রাবন্ধিক অনু হোসেন শিল্পসাহিত্যের বিশেষ করে কবিতাবিষয়ে অত্যন্ত দরকারি একটা গ্রন্থ রচনা করেছেন, এর নাম ‘শিল্পের চতুষ্কোণ’। এতে নানান মতবাদ, কাজের ধারা, কাব্যবৈশিষ্ঠ্য, কবি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ গ্রন্থের অত্যন্ত দরকারী একটি প্রবন্ধ হচ্ছে ইয়ংয়ের দৃষ্টিতে শিল্পীর মনোজগৎ। এখানে শিল্পীসত্তাকে নির্ণয়ের এক ধরন প্রত্যক্ষ করা যায়। ব্যক্তিসত্তা থেকে যৌথঅবচেতনবাহী মানবমনের নানাবিধ বৈশিষ্ঠ্য তিনি দেখিয়েছেন, যেখানে শিল্পীর মৌলিক কাজ আর তার স্বাধীনতা প্রকাশ পাবে। ফ্রয়েডের ব্যক্তি-অভিজ্ঞানের বদলে তিনি যৌথ-অভিজ্ঞানকে বড়ো করে দেখাতে চান। মনঃস্থিত বৈকল্যের স্থলে শিল্পীর প্রথাহীন  স্বাতন্ত্র্য, সৃষ্টিক্ষমপ্রজ্ঞা, অভিনবত্বের অন্তর্বয়নের উপর জোর দিলেন। তিনি মূলত শিল্পগুণে অদ্ভুতময়তার কথা শোনান। ব্যক্তিকে তিনি সামষ্টিক ব্যক্তিসত্তা হিসাবে দেখাতে প্রয়াস পেয়েছেন। এই সমষ্টিমানব বয়ে বেড়ায় নির্জ্ঞান বা অবচেতনার প্রত্যক্ষরূপীয় সংগঠন যা মানবীয় গুণের আকর। তবে ইয়ংয়ের দেখায় বস্তুনিষ্ঠতা বা যুক্তিবাদীতা স্থান পায় না। অবচেতন মনের ধারাবাহিকভাবে বয়ে বেড়ানো নানাবিধ আচরণ, লৌকিক তৃষ্ণাকে বড়ো করে দেখান। তাঁর কাছে স্বপ্নের ক্রিয়াশীলতা স্বাভাবিক কালসীমা অতিক্রমণে প্রয়াসী এবং তিনি মৃত্তিকালগ্নতার প্রতীকময়তা নির্মাণ করতে চান। স্বপ্নের ক্রীয়াশীলতা মনের কোন্ স্তর থেকে উদ্ভুত হয়, কেন স্বপ্ন প্রতীকের আকার নানান ব্যজ্ঞনা নির্মাণ করে, কেনই বা তা স্বাভাবিক কালসীমা পেরিয়ে বহুবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, এমন সব মৌলকথকতার জন্ম দেন। তার চিত্রকল্পে তিনি আদিমতা পিপাসু ধারণা বিচ্ছুরিত হয়। আধুনিক মননের যুক্তিগ্রাহ্যতা উপেক্ষিত হয়। তিনি মনে করেন যুক্তির শৃঙ্খলা সব সময় আত্মিক বিষয়-আশয়কে এড়িয়ে চলে। এখানেই বোধ করি তার স্বপ্নময়তার সীমাবদ্ধতা। তবে তিনি তার ভাবনায় লোকাচার, বিশ্বাস ও আস্থা ইত্যাদি প্রসঙ্গ আলোচনার বিষয় করেন।

ফুকো মনে করেন নন্দনভাবনা শুধু এলিট সোসাইটির বিষয় নয়, এ ব্যক্তির সত্তাকে ঘিরে ওঠা একটা মেটাফর। ধারাবাহিক অনুধ্যানের মাধ্যমে এক রূপকল্প মূর্ত হয়ে তা আসতে থাকে। আত্মচিন্তার প্রতি জোর দিয়েছেন, বিচার, ভাঙন এবং নির্মাণ তার এগিয়ে চলার মূলস্বর। মানবসত্তা মাত্রই নির্মাণমুখী এক সত্তা বলে তিনি জানান। বর্ণভিত্তিক লেখা বাস্তবতার অনেক কিছুই প্রকাশ করতে পারে না। ভাবপ্রকাশের জন্য চিত্রলিপিকে অধিক গ্রহণযোগ্য মনে করেন। জ্যাক দেরিদা নিয়ে লিখলেন পোস্ট-স্ট্রাকচারালিজম ডিকন্সট্রাকশন ও জ্যাক দেরিদায় অনেক দরকারি প্রসঙ্গ আনেন। সস্যুর থেকে কাজ কী করে অগ্রসর হলো তাও বিস্তৃতভাবে দেখালেন লেখক। শব্দের ভিতর যে পূর্বধারণা বজায় থাকে তাই জেক দেরিদা তার মেটাফিজিক্স অব প্রেজেন্সে বর্ণনা করেন। তিনি শব্দের অন্তস্থ শক্তির প্রতি অধিক জোর দেন। শিল্পের স্বপ্নপ্রতীক ও চিত্রকল্প নামে আরেকটা প্রবন্ধে তিনি ইয়ংয়ের স্বপ্নময়তাই বিস্তৃত করেন। চিত্রনির্মাণে তার ভাবনা আরও বেশি করে জানা গেল। ইয়ং আদিমানব আর একালের মানবকে সামনে স্থাপন করতে চান। তাতে মৌলিক পার্থক্য নির্ণয় করেন। আত্মিক-অবস্থানকে সবকিছুর উর্ধে স্থান দেন। যুক্তিশীলতাকে তত গ্রহণযোগ্য কিছু মনে করতে চাননি। আত্মিক-উপলদ্ধিকেই যথার্থ জ্ঞান করেন। তিনি জানান আকস্মিকতা আর বহমান ঘটনা পরম শ্রদ্ধেয় হওয়ার আদিমানবের কাছেই টোটেম-ট্যাবু দেখা দেয় পরম মান্যরূপে। জীবনের ঘটমানতা তার কাছে আর উপেক্ষিত হতে পারে না। আধুনিক মানব অনেককিছু গ্রহণ করে চেতনার স্তর থেকে। কিছু জিনিসের উপস্থিতি স্বপ্ন-প্রতীকের মাধ্যমেই আসে। এমন বিষয়ই এই প্রবন্ধে উপস্থাপন করা হয়েছে।

চিত্রকল্প আর ইমেজিসম নিয়েও আছে এক ভ্রান্ত ধারণা। অষ্পষ্ট ধোয়াটে অনুভূতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন এজরা পাউন্ড। বুদ্ধিবাদী কবিতার ইশতেহার ঘোষণা করলেন। তার নাম হলো ইজেস্টি আন্দোলন। ইমেজিস্ট শব্দটি পাউন্ডই প্রথম ব্যবহার করেন। এভাবে যে কবিতায় নবতর কবিতায় সঞ্জার হয় এবং তাতে অন্যরা যোগ দেয় তাও এই প্রবন্ধে বর্ণনা করা হলো। এতে বস্তুর প্রত্যক্ষ রূপায়ণ, বাহুল্য হয় পরিত্যাজ্য, সাঙ্গীতিক পদ্যরীতি সামনে এগিয়ে আসে। নতুন কবিতায় হয় সৃষ্টির মূল প্রেরণা। এতে আরও ছিলেন অ্যামি ল্যাগুয়েল, জন গুল্ড ফ্রেশার, ডি এইচ লরেন্স, রিচার্ড অ্যালডিংটন, হিলডা ডুলিটন, কার্লোস উইলিয়মস প্রমুখ। চিত্রকল্পে নানান পরীক্ষা-নীরিক্ষা, লোক-ঐতিহ্যের বিস্তার, লোকাচারের উপস্থিতি, পুরাণকথাও যে আমাদের শিল্পসাহিত্যে আসতে থাকে তাও এই প্রবন্ধে অত্যন্ত নিপুণভাবে দেখানো হলো। আহসান হাবীব, নিমর্লেন্দু গুণ, মোহাম্মদ রফিক যে এভাবে কাব্যশৈলী নির্মাণ করেছেন তাই প্রাবন্ধিক উদাহরণসহ জানালেন।

বিশ্বকাব্যভূমির লোকবীজ নামের প্রবন্ধটি বেশ দায়িত্বপূর্ণ আর অধিক পরিশ্রমের ছাপ রয়েছে এতে। এখানে প্রাবন্ধিক অত্যন্ত নিপুণভাবে কাব্যে লোকসংস্কৃতির বিকাশ, ধরন, আচরণ বর্ণনা করেছেন। এখানে শুধু বাংলাকাব্যসাহিত্যের বিষয়টাই বর্ণিত হয়নি, বিশ্বসাহিত্যে লোকজীবনের নানান আচরণ ওঠে এসেছে। কবির চেতনে, অবচেতনে, যৌথচেতনে এসবের বিকাশ দেখালেন তিনি। ওয়ার্ডসওয়ার্থ, রবার্ট বার্নজ, চসার, কেলটিক লোকসমাজে লোকসংস্কৃতি, ইয়েটস, টিএস এলিয়েট, স্প্যানিশ কবিতায় লোকজীবন, লোরকা, গার্সিয়া মার্কেজ, সেফেরিস, পুশকিন, বরিস পাস্তারনেক, ল্যু শুন, চর্যাপদ, মঙ্গলকাব্য, বড়ে চণ্ডিদাস, এমনকি আমাদের কাব্যাঙ্গনে কারা কারা লোকসংস্কৃতির চর্চা করলেন তা নিবিড়ভাবে তিনি বললেন।  বের্টল্ট ব্রেশট-এর কাব্যময়তা নিয়ে বেশ তথ্যনির্ভর একটা প্রবন্ধও আছে এটিতে। ব্রেশটের কষ্টকর বর্ণময় জীবন, তার কাব্যে নাটকীয়তা, জীবনলগ্নতা একে একে বর্ণনা করেছেন প্রাবন্ধিক। মধুসূদন, জীবনানন্দ, রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে পঁচিশ বৈশাখ সংক্রান্ত কবির নানান বয়সের অনুভূতি নিয়ে এক প্রবন্ধ, শামসুর রাহমানের লোকবাংলার উপাদান, আল মাহমুদের কবিতায় নারীপুরাণ, আবু জাফর ওবায়েদুল্লার কবিতায় মাতৃকল্প, শহীদ কাদরীর কবিতায় পরবাস সংক্রান্ত বিষয়-আশয় জায়গা পেয়েছে। তবে একদিকে পাশ্চাত্য-পাঠজনিত মেধা, অন্যদিকে অবচেতনাজাত লোক-উপাধান কবিকে ভিন্ন এক ভাবনবহুল দ্যোতনা দেয়; একধরনের দ্বন্দ্ব বিরাজ করে কাদরীর কবিতায়।  শিল্পীমানসে লোকজীবন উকিঝুকি মারে ঠিকই। তাই তো তার কব্যে লোকজীবনের চিত্রময়তা লক্ষ করা যায়।

তবে কিছু জায়গায় মতদ্বৈততাও তৈরি হয়। যেমন, তিনি তৎপর থেকেছেন শিরোনামকে গ্রহণযোগ্য করার দিকে। এইদিক থেকে প্রবন্ধগ্রন্থটির একধরনের প্রতিষ্ঠানমুখী আচরণ বিরাজিত থাকে। তিনি নিজেই প্রায় নিরলস পক্ষপাত বজায় রেখেছেন। একধরনের একাডেমিক আচরণ লক্ষ করা যায়। ভাষার সবখানেই কবিতার একটা আবহ বজায় আছে। আমরা আশা করব তিনি যেন পরবর্তীতে শিল্পের অণ্যসব শাখা – চিত্রকলা, নাটক, ফিল্ম, কথাসাহিত্য নিয়ে ভিন্নজগৎ তৈরি করেন। একহিসাবে গ্রন্থটির নামকরণ কবিতাশিল্পের চতুষ্কোণ রাখতে হয়ত যথার্থ হতো। কারণ সবখানেই আছে কাব্যসংক্রান্ত কথকতা। এমনকি ল্যু শুন, বরিস পাস্তেরনাক প্রমুখের আলোচনায় কাব্যময়তায় প্রাধ্যান্য পেয়েছে। রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন পঁচিশে বৈশাখে তার যে চৈতন্য লক্ষ করা যায় তাই প্রাবন্ধিক নিখুঁতভাবে বের করলেন। এতে রবি ঠাকুরের একটা দিক উন্মোচিত হলো। মাইকেল মধুসূদন নিয়ে একটা ভিন্নধরনের আলোচনা করা হলো মদুসূদন দত্তের সৃষ্টিবৈচিত্র একটা নবমাত্রার লেখা – এখানে প্রথাগত মূল্যবোধ, ধারণা, আচরণ, মধ্যযুগীয় ধ্যানময়তা, বৈচিত্রহীন জীবনচরণ, সমাজ ও সাহিত্যজ্ঞান যে কবিকে আচ্ছন্ন করে তাই লেখক বর্ণনা করলেন। একধরনের বিপ্লাত্মক কাজই করলেন কবি। তিনি আসলে সর্বভারতীয় সংস্কৃতির রক্ষণশীলতাকেই আঘাত করলেন। 

আরেকটা বিষয় হচ্ছে এটি শামসুর রাহমান, শহীদ কাদরী, আল মাহমুদ প্রমুখ পর্যন্তই আলোচনা সীমবদ্ধ থাকল, আমরা এও আশা করি প্রাবন্ধিকের পরবর্তী আলোচনা সমকালীন কবি বা লেখকগণও স্থান পাবেন। আল মাহমুদের কবিতায় পুরাণ তার কাব্যবিবেচনায় নারী এসেছে মৃত্তিকালগ্নতার এক রহস্যময় ব্যঞ্জনাময় অন্তঃবীজের আকর হিসাবে। লোকপুরাণের আদিম বিশ্বাসকে তিনি তার কব্যে স্থান দিয়েছে। এতে আল মাহমুদ তিনটা কর্ম সমাধা করতে পারলেন – ১. নারীর ধর্মাশ্রয়ী জীবনবোধকে অনেকটাই আড়ালে রাখা গেল। ২. কবির কথিত নারীর শরীরীচেতনা আনা গেল। ৩. প্রাবল্যবাদী পুরুষচেতনাকে প্রাধান্য দেয়া গেল। শহীদ কাদরীর আলোচনায় নগরের প্রতি দ্বিধাময় পক্ষপাত, পাশ্চাত্য জীবনতৃষ্ণার ধরন বর্ণনা করলেন প্রাবন্ধিক। নগর তো স্বাবলম্ব নয়, তাই নগরভিত্তিক নৈরাজ্য কবিভাবনাকে করে বিপন্ন। তাই কবি পাশ্চাত্য-ঋণের কথা জানাতে ভুলেন না। তাই গভীর সংবেদনায় তার কবিতায় ওঠে আসে। এমনই দোলাচলে তার কবিতা বিকশিতও হয়। শহরই তার চেতনা ভরিয়ে রাখে। তবে তার কবিতায় কিছু লোকজ উপমা, প্রতীক, জোছনাময়তা, জোনাকি, শালিক, শিউলি তার নগরসত্তাকে এক জিজ্ঞাসায় নিমজ্জিত করে। শহরজীবনে হারিয়ে যাওয়া কিছু লোক-উপাদান ঘুরেফিরে আসে। শামসুর রাহমান বরাবরই নাগরিক অনুষঙ্গকে প্রাধান্য দিয়েছেন। কিন্তু এখানে অনু হোসেন কবির সেই দিকটা উন্মোচিত না করে লোকবাংলার জলহাওয়ার উপর নজর দিলেন। এখানে কবির ভিন্নধরনের এক ক্রিয়াশীলতা প্রকাশ পেল। লোকজীবনের সাথে সরাসরি যোগাযোগ না থাকাতে একধরনের ব্যক্তিক দূরত্ব তার আছে; যার ফলে তার দেখায় শহরমুখী আবেগ বা উচ্ছ্বাসও প্রকাশ পেয়েছে। মূলত অবরোহমূলক পদ্ধতিতে তিনি লোকজজীবনকে ইতিহাসের রীতি ভেঙে শহরে উপস্থিত করেন। তবে কৃষক-জীবন, লোকায়ত জীবনের রাধা-কৃষ্ণ, লোকজ প্রেমানুভূতি, মঙ্গলকাব্য, পদাবলী, লোক-পুরাণ, মৈমনসিং-গীতিকার নানান অনুষঙ্গ তার সৃষ্টিশীলতায় লক্ষ করা যায়। লোকজীবন ও লোকচিত্রের প্রভাব তার কাব্যময়তায় ভাস্মর হয়।

প্রবন্ধগুলোর সবচেয়ে উলে­খযোগ্য ইতিবাচক দিক হচ্ছে, নিবিড়ভাবে কাব্যশৈলীর নানান দিককে একেবারে গভীর থেকে পর্যবেক্ষণ করা এবং তা  পাঠককে জানানো। তার প্রচেষ্টা ছিল ক্লান্তিহীন, একাগ্রতায় পূর্ণ। তিনি সমমাত্রার একটা ভাষাদলিল নির্মাণের প্রচেষ্টাও লক্ষণীয়। কার্ল ইয়ংএর দেখানো মনস্তত্ত¡, রহস্যময়তা, স্বপ্নতত্ত¡, প্রতœরূপ, প্রতীকবাদ, আদি মানবিক ধারণা, অনুমানবাদ, নারী-পুরুষের হৃদয়ে অ্যনিমা-অ্যনিমাস স্বরূপ উন্মোচনে তার ভাষায় আছে একধরনের øিগ্ধ গীতলধর্মীতা, কাব্যিক  মায়াময়তায় তা পূর্ণ। জটিল-শুকনা বিষয়কে প্রাঞ্জলতায় পূর্ণ করতে পেরেছেন। সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে, অতি সংক্ষেপে সবকিছু সম্পন্ন করার এ-কালে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী দরকারি কাজ। এর পাঠক-নিমগ্নতা সহজেই কামনা করা যায়।

শিল্পের চতুষ্কোণ
অনু হোসেন
প্রকাশকাল ফেব্রুয়ারি ২০০৫
ঐতিহ্য
প্রচ্ছদ ধ্রুব এষ
পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৪, মূল্য ১২৫ টাকা

মন্তব্য, এখানে...
Share.

জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার জ্ঞানপুর গ্রামে, মামাবাড়িতে ১৯৬৩ সালে। সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে উজ্জীবিত বাজিতপুর এবং নাটকপাগল গ্রাম সরিষাপুরে জন্মগ্রহণের সুবাদে ছোটবেলাতেই সাংস্কৃতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়। স্কুল-কলেজের ওয়াল ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়। তার ধারাবাহিকতা ছিল মেডিকেল কলেজেও। ২য় বর্ষে পড়াকালিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাহিত্য বিভাগ থেকে স্বরচিত গল্পে ৩য় স্থান অধিকার করেন। এটিই খুব সম্ভবত কোন সাহিত্য রচনার জন্য প্রথম স্বীকৃতি লাভ। প্রথম গল্প প্রকাশ হয় ১৯৯৮ সালে মুক্তকন্ঠ-এ। প্রকাশিত গল্পের নাম ‘জলে ভাসে দ্রৌপদী। পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে ৫টি গল্পগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, ৪টি গদ্য/প্রবন্ধ গ্রন্থ এবং ১টি সংকলিত সাক্ষাৎকার। তাঁর প্রকাশিত বই: মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, জাগৃতি প্রকাশনী)। পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০০৬, মাওলা ব্রাদার্স)। স্বপ্নবাজি (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ)। কতিপয় নিম্নবর্গীয় গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রæয়ারি ২০১১, শুদ্ধস্বর)। উপন্যাসের বিনির্মাণ, উপন্যাসের জাদু (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১১, জোনাকী)। যখন তারা যুদ্ধে (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, জোনাকী)। গল্পের গল্প (গদ্য/প্রবন্ধ, একুশে বইমেলা ২০১৩, জোনাকী)। কথাশিল্পের জল-হাওয়া (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, শুদ্ধস্বর)। ভালোবাসা সনে আলাদা সত্য রচিত হয় (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, জোনাকী)। দেশবাড়ি: শাহবাগ (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, শুদ্ধস্বর)। কথা’র কথা (সংকলিত সাক্ষাৎকার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, আগামী)। জয়বাংলা ও অন্যান্য গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, জোনাকী)। কমলনামা (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বেঙ্গল)। হৃদমাজার (উপন্যাস, ডিসেম্বর ২০১৫, অনুপ্রাণন প্রকাশন), খুন বর্ণের ওম (উপন্যাস, ফেব্রæয়ারি ২০১৮, ঘোড়াউত্রা প্রকাশন)। সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘কথা’ প্রকাশিত সংখ্যা ৯টি (২০০৪-২০১৪)। ২০১১ সালে ‘কথা’ লিটল ম্যাগাজিন ‘শ্রেষ্ঠ লিটল ম্যাগাজিন প্রাঙ্গণ’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি (মরণোত্তর)।

Leave A Reply