দুধতরঙ্গের এককোণে : দেবযানী বসু

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

গরাদমন্ডলীর আন্তরিকতা

মোটরগাড়ির গ্যারাজ ষাঁড় ও গরুদের ডাক
অনুসরণ করছে।
এই ছোঁয়াছুঁয়ি বলে লাল সিঁড়িতে কালো ছায়া হয়ে আটকে আছি
বৃক্ষরাশির মানুষ আমি
বনের আলোকরেখা তোর গালে এঁকে দেবো
সাদা সিলিং ধরে ঘরের বিষাদ আজ ঈগলউল্কি
চুমুশব্দরা মড়ারখুলিতে পড়ে
খুলিটিও জানুদেশে স্থানু
আমাকে কোলে নে
অচীনমেড ঘড়ি আর বাইশেপভরা নারী
ভোর্টেক্স বানায় ওড়ায়
এখন এম্বুলেন্স অনন্ত পাড়ি দিয়ে অনন্তে হারাল।

ক্যাকটাস রান্নার দিনে

চোখই তো রাজার দিবসের প্রজাপতি
ইউক্যালিপ্টাসের বকবকে ওলোটপালট হাত
তোকে চটকাবে
পুরানো শহরের যত্ন নিস
বর্ষার চাঁদ মেঘ খেয়ে ফুলে ঢোল
মাঝরাতের আগেই দেয়ালছবির ব্যক্তিটি গান গেয়ে ওঠে
ক্যাকটাসফুল রান্নার রেসিপি বিনিময় করি
তুই আমাকে পাবি বলে দেয়ালেই চেপে ধরিস
তবে কিনা চল্লিশ বছর ধরে গ্ৰামিণ সূর্যাস্ত চাষবাস করছে
জানিস মরার পরেও শূয়োরের মুন্ডুরা
প্রেম হাসিমুখ ধরে রাখে।

বাতিল শব্দটি শিখে

সিন্থিয়া জানত বুদ্বুদ-মাছেরা চল্লিশ বছর ধরে হাততালি পেয়ে আসছে।
পশুবিজ্ঞানী হিসেবে তুই জানিস নীলাভ ফুলের সঙ্গে আমাদের হাঁটাহাঁটি করোনাবলয়ে।
অ্যাসেম্বল করছে জীবন
চায়ের সরঞ্জাম তরমুজ বেহালা জানলার বাইরের হনুমান আর তোর গঙ্গামাটি বুক
শুধু দুটো কুঁড়েঘর মোবাইল টাওয়ারের আওতায়
অব্যাখ্যাত চুম্বনক্রিয়া শেখায় মানুষটি একরাশ জলমাটিহাওয়ায় বিন্দুমূর্তি
মেঘের বেড়া ধরে হাঁটছে।

কুঠার ও গাছকাটার দিনগুলি

বর্ষা গ্ৰীষ্ম বারোমাস গরমজামা দিস
ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে হাড়ে ঘূণ ধরেছে
কবির হাড়ে তৈরি পাশা নিয়ে ভারতবর্ষ অনেক খেলছে
চালাক চালাক রোদ্দুর ঝরাপাতায় পড়ে
সাদাকালো পুঁয়ে সাপ জন্মায়
শ্রমিকরা নির্মীয়মান আবাসনে কাচের ডানায় ওড়ে
ডানা টু ডানা এমপ্যাথির সাদালো আঠা
চুম্বনক্রিয়া মাংসপেশীর ক্যারিকেচার যাদুভঙ্গী
এই তুইই স্তনঢাকা হাতের কালভার্ট দ্রুত পেরোলি
সাগরের জেলিকিস ফিসজেলি
শরীরের আলোচনায় জালিপোষাকের মৃত্যু চর্ব্য চোষ্য লেহ্য পেয়
আমাদের বিচ্ছেদে শ্মশানও প্রতারক।

যবনিকা যা অদৃশ্য

থাইম ও চুঁইঝাল বোবাদের জগতে বুকে পড়েছে
চুমুর তেহাই ও দোহাই
সহজ সোনাঝুরি বুকে পরিস না কেন
ডানার ঝাপ্টায় জলে ঢেউকুচি
চুপবৈঠায় চুপবৈঠায় হৃতালি মিতালী
আহ্লাদে ল এর প্লূতস্বর কবেই কণ্ঠি বদল করে সারা
পানকৌড়ির অসুখ করে গাঁয়ের মেলা শুরু হলে
অসুখের বিছানা পাহাড়ের পাকদন্ডী পেরোয়
ঘোরালো পথে লাগে ঘোর
লাফালাফি ঝাপাঝাপি করে কৃষ্ণচূড়া অসুখে পড়ার আগে
গাছের প্রতি মিনতি গাছ শুনে নিল
গাছ সাবধান করে
হাত পা বাঁধার গান ভোরের দিঘিতে থরথরায়।

ঘসলেই শ্রীরাগধানী মনে পড়ে

নিজেকে যা বলা উচিত
তোকে তা বলি না
গলা কাটাকাটি করে নিজেকেই চিনি
সুজাতার পায়েস পদযাত্রা কোরে কোটি বছর পেরোল
বিছুটিরও বিছুটি পাতারা অনাহারে মৃত্যু বাড়িয়েছে
তাঁবু বানিয়েছিস শুশ্রুষার
সকালের শরবতে বিমানডুবি
বিকেলের শরবতে করোনা নিষেধ
ভিতরে তেলাপোকার জীবনসংগ্রাম
নেগেটিভ -ছবি
তোর সব ঘসামাজা কষ্টিপাথরের কপালে
ফিরলে ডুবে যাওয়া টাইটানিক নিয়ে ফিরিস।

দুধতরঙ্গের এককোণে

একটু বেশি সময় ধরে বসে আছি আমরা
এর পরিণতি
হলুদ জুতোর এন্টেনা সামুদ্রিক নীলে মিশবে
তীরে উপুড় জীবনদান কোরে
ভারি ঝিনুকপ্রদীপটি এক হাত আকাশে মেলেছে।
স্তরস্তরায়িত আবাসন -আবাসিক গলির মাথায় ছিন্নভিন্ন সূর্যাস্ত
মৃত ভ্রূণের দুঃখ নিয়ে দাঁড়িয়ে
যতদিন না একা হব পাথর পাঁচিল জুড়ে
বই পড়ার মর্ম বুঝব না
এত রঙিন ব্যর্থতা তুই বুঝবি না
তুই ছোঁয়ামাত্র পাঁচিলটি সমুদ্রের নিস্তরঙ্গতার
অন্তরঙ্গতায় জাহাজের
একফালি বারান্দা হয়ে যাবে।

মন্তব্য, এখানে...
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
দেবযানী বসু

দেবযানী বসু

জন্ম : ১৯৬০, বর্তমান নিবাস : টালিগঞ্জ। বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর, বি,এড। শূন্যদশকে লিখতে আসা এবং কৃত্তিবাস প্রতিভাস কবিতাক্যাম্পাস সুতরাং থেকে কবিতার বই প্রকাশিতসমূহ: দেবযানীর স্বীকারোক্তি, স্বপ্নিল বর্ণমালা, তৃতীয়া পৃথিবী, আইভরি খাতা, নোনামিঠে জলচিহ্ন, রেডিও অ্যাক্টিভ মিনারেল বৃষ্টি, চৌরেখাবতী পিরামিডের অরোরা, স্ট্রবেরিগন্ধার যোজনপথ