বৈশাখের কবিতা : নিমাই জানা

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

বৈশাখ পর্ব এক ও ক্রোমোজোম

হিরণ্যকশিপুরের মতো একদিন গভীর রাতে উঠে আমার মিশ্র ভগ্নাংশের তপোবন ছায়ায় তিনটি বৈশাখ্য ক্রোমোজোমকে হত্যা করে ফিরে এলাম,
আমার পোশাক থেকে টকটকে লাল রঙের যতি চিহ্ন গুলো ঝুলে আছে অসংখ্য কাটা হাত নিয়ে
একটি জলাশয়ের ধারে আমার ঈশ্বরীয় নৌকা গুলো আমাকে মাঝে মাঝে হত্যা করার মন্ত্র শিখিয়ে দেয় রাজযোগ ধর্মযজ্ঞে আহুতি দেওয়ার পর
আমি চিরহরিৎ চোখের নিচে হোমাগ্নি জ্বেলে যাব বিশুদ্ধ পরজীবীর যত দৈহিক শূন্যঘরের চাহিদার মতো
আমি কাল্পনিক অশরীরীকে নিয়ে কোনদিন মৌলিক সংখ্যার নভশ্চরদের সাথে অযোগবাহ পাহাড়টিকে উপড়ে ফেলতে পারিনা মৃত অশ্বগন্ধার মতো
ব্যঞ্জন ধ্বনির মতো ঔষধ বৃক্ষগুলো কাঁটা চামচ দিয়ে কেটে কেটে খাই রোববার দ্বিতীয় পর্ব দিনে

বৈশাখ পর্ব দুই ও বিমুগ্ধ সিদ্ধার্থের ছায়া

আমি রাতের জোনাকি শব্দের একটি মাটির মূর্তি তৈরি করি যে আমাকে রাতের এক বিমুগ্ধ সিদ্ধার্থের ছবি পাঠায় , আমি তার দশমিক সংখ্যা বলে কোন মূল ক্ষেত্রফল জানিনা
কাল্পনিক অশোকের কাছে সব স্থাপত্য খুলে রাখি নরম দেহ ঘর থেকে ধীরে ধীরে বৈশাখের ৩ তারিখ আসা অবধি
আমার মায়ের স্পন্দন ব্রাকিয়ালে ভরে কিছু আপেল বৃক্ষের পাতা কিনে বাড়ি ফিরি , আমি প্রতিটি নারীর তৃতীয় স্তনের কাছে একটি হাড়ের ভগ্নাংশ দেখেছি যার কোন মিয়োসিস উপসর্গ নেই
আমি ধারালো নিউক্লিওলাস নিয়ে অদ্ভুত এক ক্যালেন্ডারের পাতা জুড়ে রক্ষক চিহ্ন গুলি রেখে এসেছি কংক্রিট দানার মতো হলুদ জায়মান সালফার দিয়ে
আমি নিজের মুখমন্ডল দিয়ে সব তলপেট ভরিয়ে দিয়েছি ক্ষয়প্রাপ্ত হিমোগ্লোবিনের রঙ দিয়ে , কালপুরুষ এখানে ১৬ দিন অভুক্ত বসে ছিলেন

বৈশাখ পর্ব তিন ও প্রাচীন দরজা গুলি

আমার বিনাশী শরীরের উপর কোনো শুভ নববর্ষ বলে লেখা নেই তিনটি ধারালো দাঁত নিয়ে আমি একটি গাছের তল পেটে শুয়ে শুয়ে আমি দারুচিনির লাল রঙের পাতা হয়ে যাই
করঞ্জা ফলের মতো দ্বিভুজী রাত্রির ছায়ামাখা কোন ঈশ্বর এসে আমার ক্ষতস্থানে প্রলেপ লাগিয়ে যায়নি পাতাবাহারের মতো আমাদের সহবাস চিহ্ন ভেঙে যাওয়ার পর আমি দেখেছি গভীর রাতের বৃষ্টি এলে কোন উপকূল মানে না
বন্যা একবার এসেছিল কালবৈশাখী অসুখ নিয়ে
আমি শুধু উপুড় হয়ে যাওয়ার পর কিছু রক্ত বমি নেমে এসেছিল প্রতিটি অক্ষয় তৃতীয়ার দিন , তারপর আমাদের আর কোন বুদ্ধ পূর্ণিমার সহবাস চিহ্ন ভেঙ্গে প্রাচীন দরজা গুলো অক্ষয়বট নিয়ে নেবে যায়নি
মা এমলোডিপিন নামে একটি ধারালো ঝাউ গাছ রোপন করছে যুদ্ধজাহাজ ঠোঁটে নিয়ে

বৈশাখ পর্ব চার ও বিশল্যকরণীর হত্যা

আমিতো বেগ হীন নক্ষত্রকে হত্যা করতে পারি
প্রতিদিন আসলে আমার ধারালো তরোয়াল এর নিচে হলুদ রঙের মরচে দানাময় একটি কার্সিনোমা অসুখ নিয়ে তলপেট থেকে জল বের করছে একটি বিশেষজ্ঞ পুরোহিতের ডানহাত
আমি নিডল ভাঙ্গা , কাঁচ ভাঙ্গা খাই কিছু বিশল্যকরণী পাতার রস দিয়ে
দেখি কিভাবে আর একটা বাংলা নববর্ষ শুরু হয়ে গেল আমি দাঁত থেকে কিছু বিশুদ্ধ ক্ষতচিহ্ন আর সমর্পণ চিহ্নের অসুখগুলো মিলে রাখি কাঠফাটা রোদের নিচে
রক্তের আর কোন বিকল্প হতে পারে না , হিমাক্সেল নিয়ে কিছু মহাকর্ষ আবির নিজের ব্রহ্মতালুতে রাখলাম
চেয়ে দেখো সন্তানেরা আমাকে একটি বসুন্ধরার জলপ্রবাহ ঘটিয়ে যাচ্ছে আমার মাথা থেকে পা , পা থেকে আমার অতিচেতন দেহের দিকে
৩৫০ টি ভূখন্ড ভাঙ্গা হাড় গুলো প্রজাপতির মতো ব্যঞ্জনবর্ণ হয়ে উঠছে জগদীশপুর বৃত্তের মত

বৈশাখ পর্ব পাঁচ ও চিন্ময় পুরুষের গর্ভকেশর

আমি কিছু মৃত্যু নামক পরাগের ভেতর আরো একবার ঢুকে যাওয়ার পর কিছু আলপথের নিজ থেকে কুড়িয়ে আনা বৈশাখের ৬ তারিখের নৈঋত ভাঙ্গা কাঁচফল মুখে নিয়ে রাত্রি পুড়িয়ে চলি , আমার বানপ্রস্থ বলে আলাদা কোন কিছুই উপসর্গ ছিল না
রাতে একটি গভীর ছায়ার নিচে বসলেই দেখি কলঙ্কহীন কঙ্কালগুলো বাতাস ভরে নিচ্ছে একটি শুকনো পেটের ভেতর
একপ্রকার স্নেহ ঘরের অশোকদার মতো একটি পুরোহিত দাঁড়িয়ে থাকে 3° ট্যানজেন্ট বিছানার পেছনে
অথচ আমার বাংলা ক্যালেন্ডারের কোন অশৌচ চিন্ময় পুরুষেরা কোনদিন গর্ভকেশর হয়ে নেমে আসে না একটি জলাশয়ের নিচে টকটকে হলুদ ফুলের ভেতর থেকে আরো কিছু নাভি মন্ডলের কুণ্ডলী কৃত সন্তানদের নিয়ে আমি সমকোণে হেঁটে বেড়াই এক ভরবেগ সম্পন্ন ঘোড়ার মতো
আমাদের ক্ষত্রিয় যোগ ছিল বলেই সব রুপোলি রঙের কঠিন রোগ গুলো গভীর রাত পর্যন্ত গেঁথে রাখি আর কিছু সহবাস কথা ভুলে যাই প্রতিদিন

বৈশাখ পর্ব ছয় ও মকরক্রান্তি রেখার ঈশ্বরী

খুব ভোরে ওঠে যখন সূর্য মকরক্রান্তি দিকে সরে যায় আর আমাদের প্রচ্ছন্ন সহবাস থেকে , ঘাম গন্ধ গুলো উড়ে যেতে থাকে ১১২ দফা মেডিকেটেড সোনালী রঙের দোকান থেকে
আজ কিছু ঘর শূন্য বালকের কথা হোক , যেখানে অ্যারিস্টোটলের মতে আমার মা একটি অদ্ভুত মায়াঘর রোপণ করে গেছে সুপুরুষের সোনা দন্ড হাতে নিয়ে
আমি বারবার ভুল করি আমি নাকি গভীর রাতে প্রিয় ঈশ্বরীকে হত্যা করে ফিরেছি প্লাজমার ঠোঁট নিয়ে , আসলে বৈশাখের দিনে কারো গায়ে কোন অভয়ারণ্য থাকে না
সব চতুষ্পদেরাই সাপের সাথে নরম মেহগনি অথচ ফলের মতো বৈবস্বত মন্বন্তর থেকে ব্রহ্মপুরাণের দিকে চলে যাচ্ছে
আমি শুধু নিজের চোখে তিনটি ধাতু ক্ষয়ের মন্ত্র রাখি আর হলুদ রঙের সব জন্মেঞ্জয় সূত্র আমি সমর্থন করি বর্গভীমার তীরে
আমার জামার কোনো দিন অনিষিক্ত ডিম্বানু থাকেনা অভিকর্ষ ক্ষেত্রে

বৈশাখ পর্ব সাত ও মুদ্রারাক্ষসের লজ্জাবতী চারা গাছ

আমাকে গ্রহণ করো নদী , আমাকে গ্রহণ করো অব্যক্ত , গ্রহণ করো ঋষি কার শপ ক্ষত্রিয় যুদ্ধের জন্য
আমি আর এ পথে অলৌকিক যাপন করিনি প্রাচীন পরাগের মতো বীজগণিতের সব কঠিন অংকের ভাষায় আজীবন পরজীবী নিয়ে থাকা এক নীরব জলসত্রের কাছে এক মুদ্রারাক্ষসের সব ঔরস কথা ভুলে যায় এই বেগবতী সাগর
মহাকালের ত্রিশক্তি নিয়ে একে একে ৩৬০° মৃত্যু গুলো দাঁড়িয়ে আছি লজ্জাবতী গাছের পাতার রস নিয়ে
আমাদের চোখে এট্রোপিনের ১০৮ দৈর্ঘ্যের বৈশাখ মাসের অজস্র আকাশমনি চারা লাগিয়ে দেবে
আমি নরম পাতাবাহারের মত কিছু লিভোসালবিউটামল মায়ের তলপেটে উপর লাগিয়ে দেবো অনুর্বর কৃষিজমির মতো
সাদা রঙের জবা গুলো মুন্ডু কাটা মানুষের আয়ুর স্তোত্র সংগীত গাইছে রজনীগন্ধার রক্ত নিয়ে
আমি হঠাৎ করেই কোন এক মন্দিরের ঘন্টার শব্দ শুনছি

বৈশাখ পর্ব আট ও সর্বনাম পদের জন্ম

আমি মধ্যরাতে উঠে ভয়ার্ত কন্ঠে শাঁখের শব্দ বাজাই , আমি তো নিজের জন্য বাঁচি , শাজাহানের মত শরীরী অংশের জন্য ধ্যানস্থ হয় নারীর কাছে সে আমায় দুটো উপনদী দিয়ে গেছে
আমার ভেতরে থাকা হলুদ মানুষটির ঘুম ভেঙে যায় হঠাৎ লিভোসালবিউটামল অথবা রঞ্জন রশ্মির মৃতদেহের মতো রাতে বিছানার পাশে এক আবেগ তাড়িত বিষাদসিন্ধু এসে জমা হয় আমি কিছু অশ্বক্ষুরাকৃতি পাই না বলেই খরস্রোতা হয়ে যাই স্থানাঙ্ক জ্যামিতির মতো রাতে
আমার ইকোকার্ডিওগ্রাফির চতুর্থ জেন্ডার সর্বনাম পদটি , কামিনী ফুলের গর্ভজন্ম দিয়ে কৃষ্ণচূড়ার পাতা খাচ্ছে

ব্যাসার্ধহীন মহাকাল উঠে আসছে রবি মার্গের ওপর দিয়ে , আমাদের আপাত চিহ্নগুলি বিসর্গ রাশির মত সাপের দেহ নিয়ে শুয়ে আছে
বিরুপাক্ষ একাই আগুন জ্বালছেন অন্তঃকর্ণের নৈসর্গিক শ্মশান ক্ষেত্রে আমাদের ছায়াটি ক্রমশ স্তন্যপায়ী হয়ে পড়লো এখন

মন্তব্য, এখানে...
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
নিমাই জানা

নিমাই জানা

জন্ম পশ্চিম মেদিনীপুর, ভারত। কবিতার ডাইমেনশনাল অথবা ঊর্ধ্ব স্থিরাঙ্ক মেপে চলাই কেবলমাত্র নেশা। প্রথম কাব্যগ্রন্থ ছায়ার মূলরোম , দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ নির্জন পুরুষ অসুখ , তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ জিরো কম্পাঙ্কের পেন্ডুলাম , চতুর্থ কাব্যগ্রন্থ ঈশ্বর ও ফারেনহাইট জ্বরের ঘোড়া ।