Friday, 20 May, 2022

বৈশাখের কবিতা : বদরুজ্জামান আলমগীর

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

বাবুই পাখির রাফখাতা

পথ সবসময় মাটিতে শুয়ে থাকে না
মাঝেমধ্যে পথ উঠে যায় আকাশের দিকে
আকাশের দিকে উঠে গেলে পথকে আমরা আর পথ বলি না,
নাম দিই গম্ভীর অয়োময় অট্টালিকা প্রাসাদ
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার
চীনের সাংহাই বাণিজ্য টাওয়ার,
বাবুই পাখিরা অট্টালিকার ফোকর জুড়ে ঘোরে দিগন্তের নালিতা শাক
আর গমের ও ধানের দানা নসিবে মাখে বাকুম বাকুম নাচের মুদ্রায় তোলে,
বাবুইদের সবক দেয় ওয়াল স্ট্রিট-দেখো
কতো পাকা জমিনে পাকা উঁচু কুলীন দালান
মতিঝিলের দিলকুশার বহুজাতিক সিটি সেন্টার ঢাকা,
অথচ তোমাদের বসতভিটা সামান্য হাওয়ায় নড়বড়
এসো সভ্যতার মহিমা রাত্রির পথে নিজের ঘর করে নাও
অনড় ও সুউচ্চ দালান পাহাড়।
বাবুই বলে, আমার ঘর হাওয়ায় নড়েচড়ে
ঝড়ে ভেঙে পড়ে- এটুকুই আমার গৌরব।
শঙ্কা ও দাপটের মুখে ডাকি দয়ালের নাম,
জাপটেধরি আমার বন্ধুর ভয়ার্ত পাখা- মরি একসাথে
আবার ভাঙা নড়বড়ে ঘরের খোঁজে নিরুদ্দেশে উড়ি
অপার স্থপতি বাবুই পাখি হাওয়ায় বানায় বাড়ি।।

আমার বাবা গোরখোদককে বলে

আমার বাবা মারা গ্যাছেন কতোদিন কতো বছর হয়
সে আজ এতোকাল পরে ভুলেই গ্যাছি
সেই মৃত্যু কোন আলোড়ন তোলেনি
বৈঠার আঘাত জলে আলোড়ন তোলে-
নৌকো তরতরিয়ে এগোয়
আমাদের বাবার মৃত্যু কোন আলোড়ন তোলেনি
কিন্তু আমার মৃত্যুর মুখে, আমার চলে যাবার আগ মুহূর্তে
আমার মৃত বাবা ট্যাঁটার মুখে পড়া বোয়ালমাছ-
পানির নিচে বাতাসের সিন্দুকে কী যে আলোড়ন তোলে
গোরখোদককে বাবা বলে, আমি জানি কীভাবে কবরে থাকতে হয়
ওকে নয়, আমাকে আবার গোরে নামাও
ও শিশু, শিশু একটি- কেন ভাবো ও বড় হয়েছে
কবরে নামার মত বড় হয়েছে?
ও শিশু, চিরদিন ওর মায়ের কোলে শিশুটি আমার
আমাকে কবরে নামাও, আগে আমাকে রাখো গোরে মাটির নরমে।

ভ্যান গঁগের ব্রাশ

সবাই ঘুমায়, একটি জবাফুল জেগে থাকে।
ইউক্রেন নির্ঘুম, তার সাথে নির্ঘুম তুমি।
তা-ও কম কিসে- একটি অছিলায়
ফিলিস্তিনের অন্যায়ের মীমাংসার সঙ্গে তুমি জেগে আছো।
যে ফাঁসি কাষ্ঠের দিকে এগোয়- সে কী কখনও ঘুমাতে পারে?
একটাই তো যুদ্ধ দুনিয়ায়- জেগে থাকা আর ঘুমিয়ে পড়ার যুদ্ধ।
তুমি একটি রোদে ভেজা ছায়ার মোহনায় প্রাগৈতিহাসিক বাসনার
ঘন্টাধ্বনি বেদনায় অপেক্ষায় তমসার মোম ঝরে
রূপকথার তিনটি ময়ূর পেন্সিলে তুমি আঁকো
ভ্যান গঁগের সুতীব্র ব্রাশের পোঁচে ক্ষরণ জেগে থাকো।

মন্তব্য, এখানে...
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
বদরুজ্জামান আলমগীর

বদরুজ্জামান আলমগীর

কবি, নাট্যকার, অনুবাদক। জন্মেছেন ভাটি অঞ্চল কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে। পড়াশোনা বাজিতপুরে, পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বহুদিন দেশের বাইরে- যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় থাকেন। বাঙলাদেশে নাটকের দল- গল্প থিয়েটার- এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য; নাট্যপত্রের সম্পাদক। নানা পর্যায়ে আরও সম্পাদনা করেছেন- সমাজ ও রাজনীতি, দ্বিতীয়বার, সাংস্কৃতিক আন্দোলন, পূর্ণপথিক, মর্মের বাণী শুনি, অখণ্ডিত। প্যানসিলভেনিয়ায় কবিতার আসর- সংবেদের বাগান-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রকাশিত বই।। আখ্যান নাট্য : নননপুরের মেলায় একজন কমলাসুন্দরী ও একটি বাঘ আসে। কবিতা : পিছুটানে টলটলায়মান হাওয়াগুলির ভিতর। আখ্যান নাট্য : আবের পাঙখা লৈয়া। প্যারাবল : হৃদপেয়ারার সুবাস। কবিতা : নদীও পাশ ফেরে যদিবা হংসী বলো। কবিতা : দূরত্বের সুফিয়ানা। ভাষান্তরিত কবিতা : ঢেউগুলো যমজ বোন। ছিন্নগদ্য : সঙ্গে প্রাণের খেলা। প্রকাশিতব্য নিবন্ধ : আশ্চর্য বতুয়া শাক ও কাঁচা দুধের ডিসকোর্স।