বৈশাখের কবিতা : হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

অক্ষরের বুকের ওপর দিয়ে

প্রতিটি অক্ষরের বুকের ওপর দিয়ে
সদরদরজার হাতে হাত রেখে যে নদী বয়ে গেছে
তার কোলাহলেই সভ্যতা আজ চাষযোগ্য জমি

কোলাহলের বিরক্তিতে
আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি যাবতীয় পায়রা
আর সেই শূন্যস্থান ভরাট হয়ে যাচ্ছে ধাতব চিৎকারে

স্রোতের মতো বয়ে যাচ্ছে আমাদের সমস্ত পরিচয়
একটাও বাঁশপাতা কি খড় আমাদের হাতে নেই
যাকে মাথায় নিয়ে আমরা
পাহাড়ের সামনে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারি
আর বলতে পারি দরজা বন্ধ হলেও
ভেতরে এখনও অনেকেই জেগে আছে।

আগুনের ব্যবহার

একটা ঘর আর অনেকটা খেলা নিয়ে
বিকেল হয়ে গেল

মাত্র দু’ চারটে কথা
আসলে বারবার হাতের দিকে নজর যাওয়ায়
কথা বলতে সমস্যা হচ্ছিল

আমরা হাঁটছি বলে নিজেকে আনন্দ দিই নি
সামনে সামনে এত এত সিঁড়ি আসছিল
প্রতিটা দিন নতুন করে শুরু করার মতো
পায়ের আঙুল ছোটো হতে হতে বেড়ে যাচ্ছিল জেদ

কৌশলী আগুনের ব্যবহার
আমাদের শেষ দিন ভুলিয়ে দিচ্ছিল

বাসস্টপের ঠিকানা

বাসস্টপের ঠিকানাগুলো সব একমুখী
ডিপো থেকে বেরিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে যায়
রোদ্দুর ভেঙে যেতে যেতে আবার তাদের ডাক আসে
কোথাও একটা নীলচে কমা তাদের দাঁড় করায়
কিন্তু তারা তো রেললাইনের সোজা হাঁটে
সোজার ঠিকানা তো দিগন্তে শোভা পায়
কে আর তাদের হাতে নিয়ে পা ফেলে হাওয়া গাড়ি
আলতো করে হাত ছুঁয়ে কথা ছিল পরে সব কথা বলার
সোজা কথায় বিশ্বাস যা হোক এখনই বলে ফেলা
তাই কথা সব মোড় ঘুরে বাঁক নিয়ে নেয়

রেললাইনের সোজা ঠিকানা এখনও রচনায় আসে
বৎসরান্তে একবার মাত্র ছাত্র
আবিষ্কারের মেজাজে তাকে ধরে ফেলে
মুখস্থই লিখে ফেলে উদয় থেকে অস্ত পর্যন্ত
তারপর কোথায় তারা?
কোনো এক ছুটির সকালে পর্বতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে
সেই ছাত্র আগামীর হাত ধরে
চোখ ছোটো করে দেখায় সেই সোজা ঠিকানা
অনেক দূরে একটা আলোর রেখা
শুধুমাত্র সংজ্ঞায় ধরা দেয়।

মন্তব্য, এখানে...
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

কবি