ভাবনাকে ভাবা যেতে পারে…  : মুহিন তপু

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

দেখালে সবই দেখা যায়, না দেখালে কিছুই দেখা যায় না। দূরের ভাবনাটি কাছের। কাছের ভাবনাটি দূরের।
এমন ভাবনার দৃশ্যের ভেতর প্রজাপতি প্রবেশ করতেই ফুটে উঠছে  ফুলের কলি। অনাগত ফুলটির সর্বনামে ভাবা যেতে পারে ইশকুল পালানোর বেলা।  ভাঙা প্রাচীর পার হলেই বাংলা ছায়া-ছবি…
ভাবনাটি ভাবা যেতে পারে।

ভাবা যেতে পারে
মেঘলা দুপুর। এখানে ছমাস হলো। অফিসের পিয়ন। আসাদ আসল নাম। নকল নাম নুরুল।
ধীরে ধীরে টিপিন ক্যারিয়ার খুলছে…
হেহে কি বলেন? পারুল আজকে ঠিকঠাক নুন দিয়েছে তো! হেহে…

ভাবা যেতে পারে দুপুরের আরেকটু পর,
ওইযে টঙের দোকান! আবদার, বাহানার, অশান্তির শান্তির, অস্বস্তির স্বস্তির, সুখের দুখের,  আনন্দ বেদনার, অপরিচিত পরিচিত মুখ ও মুখোশের টঙের দোকান।  ভাবা যাক আধা দুপুর আধা বিকেলের কথপোকথন।

আজকেও কি হেঁটে হেঁটে এসেছো? সাইকেল আনোনি?

জানো এ মাসে অনেকগুলো চাকরির পরিক্ষা। প্রস্তুতিও ভালো। সাইকেলের শরীর খারাপ, হাহা, আমার মন ভালো।

চায়ে সিগারেটে রাত হয়ে গেলে মনে হয় সন্ধ্যা বুঝি এইমাত্র হলো।
রাত জেগো না। উঠো আমাকে পথে নামিয়ে দিও।

নামের সর্বনামে সেই জীবন ভাবা যেতে পারে।

রাত ভালো না লাগলে দিনের কথাও ভাবা যেতে পারে।

ভাবা যেতে পারে, হৃদয়ে হরতাল তবু কেউ কেউ টুকটাক রিক্সা চলছে দেখে অস্বস্তির স্বস্তির দিকে যে যার মতো বেরিয়ে পড়ছে।
এই দৃশ্যও ভাবা যেতে পারে।

কবুতর গুলিরে কি খেতে দেন?
ধান আর গম। জানেন, আজ দুইরাত  হয়ে গেলো, ফিরেনি একটি কবুতর। দুশ্চিন্তা হচ্ছে, বিপদ না হলেই বাঁচি।
বিপদ তাকে ছুঁতে পারবে না। তার গায়ে আপনার ছোঁয়া আছেতো…
শীতকালেও মুখে চিকন ঘামে চিকচিক করছে, লজ্জায় লাল হয়ে ওড়না টেনে চুল ঢাকতে ঢাকতে বাড়িওয়ালার মেয়ে পুরাতন ভাড়াটিয়াকে
হালকা আড়াল করে বলছে,
আপনি সবসময় বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলেন। কিন্তু কি যে ভালো লাগে শুনতে!

“সমীর কি গান গাইবে?”

কি বলেন এই দৃশ্য আরো কিছুক্ষণ ভাবা যেতে পারে?
বিরক্ত হলে বলবেন। ওইদিকটায় জানালা। দেখেছেন? পর্দা সরালেই বাড়ির পেছনে হাঁটার রাস্তা, মাঠ পেরিয়ে দিগন্তের দিকে গেছে। আপনারতো বিকাল ভালো লাগে, অসুবিধা নেই, সকল কালের মতো পর্যাপ্ত বিকালও মজুদ আছে। বিরক্ত হলে বলবেন দৃশ্যে বিকাল ছেড়ে দেবো।

“সমীর কী গান গাইবে ভাবুন তো!”
প্রিয়তো আপ্নিও…
আপনি প্রিয় হবার পর থেকে বিকালের সাথে ভোরও প্রিয় হয়ে গেছে। ভোরে পর্দাটা কখনো সখনো সরিয়ে দিলেই পারেন। জানালার ভেতরের দিগন্তে কখনো সখনো যাওয়া যেত। ভেবে রাখা এসব কথা আজকে কি বলতে পারবে আলোকময়ী? ভাবুনতো…
ভাবলে অনেককিছুই ভাবা যায়। না ভাবলে কিছুই ভাবা যায় না। দূরের ভাবনাটি কাছের। কাছের ভাবনাটি দূরের। ভাবনাকে ভাবা যেতে পারে…

মন্তব্য, এখানে...
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
মুহিন তপু

মুহিন তপু

জন্ম ও বেড়ে ওঠা পাহাড়ে। খাগড়াছড়িতে। কৈশোর থেকেই লেখালেখি গান আড্ডা ভ্রমণের সাথে যুক্ত। বসবাস চট্টগ্রামে। কবিতা লিখেন বেশি গল্প লেখেন কম। ২০২১ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম কবিতার বই তীব্র জ্বরের মৌসুমে।