রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

কাগজ

কাগজ উড়ে টুকরো টুকরো
একাউন্টিং হাউজবিল্ডিং সংবাদপত্র অফিসের
ফাইলভাঙ্গা কাগজগুলো উড়ছে
জনতার ঠিকানা, শেয়ার বাজারের পাতা
আমার সময় আলোর স্তন চুপ্সে
শব্দ পোটানো কাগজগুলো সব
সব কাগজগুলো উড়ছে
খোলা জানালা
ড্রয়ার, টেবিল, চেয়ার ডুবে গেছে কাগজের টুকরোয়
তারপর কাগজ যত্রতত্র-কাগজ, সিগারেটের প্যাকেট
এক্সরে প্লেট, কাগজ ঘর ও পকেট ডুবে যায়
কাগজ জানালা বন্ধ করে দেয়
ডুবে ডুবে হারিয়ে যায় পকেটের কাগজ
হারিয়ে যায় সময় আলোর কাগজ
আমি কিছুই খোঁজে পাব না
কাগজ চোখ বন্ধ করে দেয়

ফর্সা

ছয়নম্বর রুম থেকে ক্রমানুসারে বামে রেখে দীর্ঘ বারান্দার শেষে
এক নম্বর ছুঁয়ে একঝাঁক সিঁড়ি নেমে গেছে বাদাম টুথপেষ্ট ও
সিগ্রেটের দোকান, আবিরের। আবির এক কোনায় গুছিয়ে
রাখে জন্ম নিরোধক খেলনা।
আমি আর অচিন
আবিরের দোকানে যেতে যেতে
আলো খোলা কাঁচের জানালায়, দেখা যায়
পাঁচ নম্বরে দু’জন মেধাবী ছাত্র অধ্যয়নে নিমগ্ন
একটি কক্ষে বুয়ার সাথে প্রায় বৃক্ষ পুরুষটি
শারীরিক সহচর্যে বেদনা বেদনা-সুখে আচ্ছন্ন, একজন পিছন ফিরে মদ্যপানরত।

একটিতে বেশ্যা মার্কা চেহারার যুবতী রীড টিপে
গান গাইতে বসেছে দু’বাহু আড়ালে
এক নম্বরে কবির কক্ষটি তখনও অন্ধকারে
তালায় আবদ্ধ। কবি ফিরে আসবে
যখন রাতে নিমগ্নতা বাড়বে।

কাগজের নৌকা

নিয়োটায়ূন একরামপুর থেকে পুরানথানা আখড়াবাজার রাকু-আল
সোনালী স্মরণী কলাপাতা স্মৃতি ছায়া অদূরে দিক চিহ্ন
পতিত গ্রথিত পালক-পাতা শিরা
ছায়া টপকে পুকুর ও নদীর মাঝখানের ভূমি
পল্টন মোড়ে পিঠ ফিকে যাই বৃষ্টি-স্মৃতি মালিবাগ-মৌচাক
নির্লিপ্ত রোদের পলামি
উত্তরা নর্সিন্দির অরিন্দে

খন্ডাংশের ভূমিতে গড়া ঘরবাড়ি বীজ ফোটানো সংসার
সংসারের মেয়ে ঝিনুকমালা
সে আমার এক ছোট বোন
সে রোমান্টিক, সুন্দরী
তার সাথে প্রেম কল্পনা হয়
বোনের স্নেহে উপহার দেয়া হয়
যেমন ফুল ইত্যাদি

ক্রমাগত বানতুফানের দেশে
ঘরবাহির একাকার
এখন ফেরার রাত্রি সময়ে আমার এমন ছোট বোনেরা
তুলোর ঢোলে একচোখ চেপে ঘুমোয় স্বপ্নের পলিমাটিতে।
কোথাও একজন!
সরু আলোয় কে একজন জেগে থাকে অপেক্ষায়!

নিঃশব্দ জংশন

রাত্রির নির্জনে একাকী কুকুরের সাইরেন আর্তনাদ
শিশুর মাংসল নাভী-পোঁতা জমিনে
কোদালের ধাতব আক্রোশেকি অনিবার্য শব্দে! কি নিঃশব্দ সত্য
জন্ম হলেই মৃত্যু, একটি জন্মের মতো সত্য

ঐ আনত দূরে চর তেপান্তরে
শিস দিয়ে বানানো ভাষায়
অধিবৃত্তের পাখি ডাকা
শেষ বিকেল
স্টেশন, নিঃশব্দ জংশন
হর্ন বাজেনি অতএব গাড়িও থামেনি।

আমি

আলো এলে অন্ধকার লুকিয়ে যায়
এ দু’টো একতারে বেঁধে গাইতে পারো।
চোখ বুজে ছবি আঁকা
ছবির দু’টো চাকা
এগুলো আলো অন্ধকারের সঙ্গমস্পর্শলতা।

তুমি আনুপাতিক
মেশাতে জানো
আমি জানি না,
তুমি যুদ্ধের
সময় জানো
বাণিজ্য বিশ্বের তারকা,
আমি তার বিপ্রতীকে
সেখানে পাহাড়
ধূলোর মতো ওড়ে,
নিঃশ্বাসে ডাউন ভূমি ফেলে
ওঠে আসে সাগর।
বিন্দু এক নদী।

র্ফদ

দুই বাই নয় ইঞ্চি
হলুদ কাগজে কালো কালির
তন্ন তন্ন র্ফদ পকেটে করে তিনি বাজারে গেলেন
ফিরে এসে মেঝে টেবিলে মালামাল রাখলেন
ফাইলে গেঁথে রাখা হলো টুকরো ভাউচারগুলো
মালমূল্য তালিকা

র্ফদ ইচ্ছে হিসেব মিলিয়ে লিখা থাকায়
মুদ্রিত হওয়ার কৌশল খুঁজে পায়নি,-
বাজার ব্যবস্থার সুবিন্যস্ত সাম্রাজ্যে
ওয়েষ্ট পেপার বাস্কেটে।

লেনদেন

আমার যা দরকার
সেটুকু বৃক্ষের মতো পেতে চাই।
তোমার জন্য যে অংকুর ফাটাতে চাই
ঋতু ঋতু সমর্পনে-

রহস্যভাঙ্গা একটুকরো
ঘাস আকাশের ছায়া।

মন্তব্য, এখানে...
Share.

Leave A Reply