৫টি কবিতা : অভিজিৎ দাসকর্মকার

Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email

ডাউন ট্রেন কর্ড লাইন লোকাল

…আরও নিম্নগামী হোতে চায় চোখের দৃশ্য-জল।

মন বলে বস্তুটির পাশে উনকোটি প্রত্নস্বাক্ষর_

অক্ষরে অক্ষরে মননের আদর্শলিপি কথা বলে; তবুও
আবশ্যিক কোন documents দেখতে পাচ্ছি না

জ্যোৎস্নার সময়সীমায় চাতক পাখিটি রংবদল করে।
কালো। বাদামি। সাদা।

নির্ধারিত ভাবে আকাশ আর গিরগিটির পোশাক বদলে শীতকালের সকাল আর গ্রীষ্মের দুপুরে ডাহুক পাখি ডাকে।

সময়ক্ষণটির ছায়ার পিছনে আবদ্ধ হচ্ছি।

ডাকছে আর ভাঙছে শীততাপনিয়ন্ত্রিত ঈষদুষ্ণ শরীরী কারু-কোষ ।

ও বলা হয় নি, আজ নিরুত্তাপ ছিলো স্টালিনের স্বেদনজল
এবং
১টি ঘোষণায়
ডাউন ট্রেন কর্ড লাইন লোকাল ৩৩ মিনিট লেটে চলার খবরে
গোটা পলাশ চত্তরের সরলরেখা জ্যামিতি বক্স হাতে ত্রিকোণমিতি করছে_


ছায়া এবং stream of conscious


মতবাদ দিচ্ছো? দ্যাখো; আমাকে অনেকটাই হেলিয়ে বসিয়েছো আলো ফোটার বিপরীতে, জানো না
ওরা চলে গেছে হিরোশিমার বনগর্ভের নৈঃশব্দ্যে!__

আজ স্বপ্নগুলোও তেতো। এর ওর মাথায় অনেক বেশি কালক্রম।
ঝুলন্ত রোদ আর পরিপাটি সূর্য পাটভাঙছে।

তা হোক! চা-এ স্যাকারিন দিও; ভিতরে ধিকিধিকি তুষ জ্বলছে।

আমি এখনো শিবলিঙ্গ সেজে আছি,আর শ্রাবণী নদী বহমান স্তন
এবং
পূর্ণ মহিলা-গন্ধ ম ম করছে নিস্তব্ধতার মধ্যেও, এখন

ছোটো হতে হতে বয়স, আজ
তৃতীয় দশকের নাভিমণ্ডল থেকে মহাযোনি পথে ধ্যানস্ত_

ঘুম নামছে মস্তিকের ধূসরকোণ থেকে,কারণ
বিভোর ছিলাম অপলক শীর্ণ স্বপ্নের ভিতর 

নদীও আজকাল আমায় দেখে জল-শব্দ ভাঙে, ভেঙে গেলে খবরের কাগজের গন্ধ আসে নাকে, আমি মল্ল-সারং বাজাই;

আজকাল বিকলটাও ৬:০৪-এর দিকে আবাধ্য এগিয়ে যায়, ডালপালায় জীবন কিছুটা পিউপা হয়ে দোলে, আর

শরীরে খবর আসে তোমার বড়ো বড়ো নজর পড়েছে আমার সুগলিত অস্তিত্বের বামপাশে, বেশ

সুজনভাজনেষু
এখন রাখি। একটু চা খাবো…

অভিযোজন থেকে অভিসার নামে চিল্কার পাড়ে

জানালাটা কলেজ-ক্লাস থেকেই শুকনো বাদাম গাছের তলায় একা দাঁড়িয়ে,
আজও মনটানা করিডর আর সাইকেল রাখা দৃশ্য গণতান্ত্রিক, তবুও চারিদেকে পরিমিত মার্জিন ও মাত্রা

মননের পাশে বাবুইপাখিটি সক্রেটিসের বাসা বেঁধে ফেলেছে শব্দকিশোরের সাথে,
এখনো আমি অভিনয়ে আছি মেজর বারবারা, আর
স্বপ্নের বাইরে দাঁড়িয়ে সনেট-৭৩ মশারির বাইরে দাঁড়িয়ে

হ্যালানো মিনার থেকে শ্রীকৃষ্ণকির্তন বলে ভ্রমর এবং গাড়িতে মাথানত করে অজানা হয়ে যায় বেনারসি সাজ, প্রতিটি সঙ্গ গোত্র বদলায়,
প্রতিটি হাসি মেঘের দিকে তাকিয়ে জ্বর সময় পার করে,

অপরিচিত রাতের সাথে মিলটন, বেটস্ এবং কোজাগরি তিল
তাও অনর্গল কৃষ্ণচূড়া ফুল কুড়ায় গত জন্মের পাপ

অসাড় নশ্বরতার পাশে শুয়ে আছে রুমাল ঝেড়ে ফ্যালা পুরানো ছেলেটির গন্ধ, আর
ফাঁকা-ফাঁকা বুকে দুটি বদ-অভ্যাস

সমস্ত অভিযোজন থেকে অভিসার নামে চিল্কার পাড়ে, পাড় ধরে ক্ষয়ে চলেছে সময়ের ব্যবধান

গোয়ালিনি তুমি কী জানো সাধনপুর থেকে কতবার লাল শরীর নিয়ে ফিরেছি, বালিতে শরীর ঢেকেছি

গোয়ালিনি তুমি কী চর্যাপদ বলতে পারো?

একা রাস্তার টুটা ফুটা নীরবতা

এ-সব
তুমি সজোরে শরীর থেকে মুছে ফেলতেও পারো

তবুও

সমস্ত অপরিবর্তিত কশেরুকার ভিতর কিছু প্রকৃত নিয়ম
এখনো বাকি, আর
তোমার

দাঁতের ফাঁকের দন্তন্য বর্ণে ব্যাকটেরিওফাজিল উঁচু
গলায় বক্তৃতা দিচ্ছে, তুমি ভাবছো এগুলো
হয়েই থাকে, ফাজলামি তো

অথচ

ইশারায় বলছো
বিষাদ কাটিয়ে উঠেছে হাঁটুর ব্যারাম
গেরস্তের বিনিময়, এবং
তোমার সমস্ত সিম্ফনীর ভিতর
নায়িকাহীন
একা রাস্তার টুটা ফুটা নীরবতায় মিশে যাচ্ছে
দূর থেকে বয়ে আসা শীতোষ্ণ-আঁটা মুখবিবর, তুমি

এখনো
দাঁড়িয়ে…

এতো ঘটা করে পদ্মাসনে বসা

দ্বিধাগ্রস্ত বুকের ভিতর বয়ে চলেছে
নদী, তাই হাড় ভাঙা শব্দে
পাড় ক্ষয়ে তৈরি হয়েছে অর্থহীন প্রলাপ, আর
শীর্ণ দুটি হাত এবং মন
ভৌত পরিবর্তন করে চলেছে দুর্বোধ্য লিপি ধরে, এখন অনেক
নরম সন্ধ্যা, তাই
সুবোধ বিছানায় সমস্ত প্রশ্নের জবাবে তার এতো ঘটা করে
পদ্মাসনে বসা,
চারিদিকে হাঁ করা উন্মাদনা,মশারি, আর
সম্মোহিত রুমাল, মঞ্চ দখল করে
বিরূপ গণতন্ত্র
গায়ে অগুণতি চাকা চাকা সাবানের দাগ,বিদেশি সাবান
তার দিব্যি করে বলা যেতে পারে তোমার
আ-শরীরের কিংবদন্তি রোমাঞ্চে মিশে গেছে কবেকার
হাসি
বিগত চুমুর বন্টন, আর
ভীষণভাবে রোগা হয়ে যাওয়া ইচ্ছে, তাই
অনিচ্ছা সত্ত্বেও ধারালো চোখগুলো ইতিহাসের সাথে
নাভির উপাসনা করছে, এবং ঘেন্নাগুলো কেমন
নির্ভুল কোষীয় ধাতুর গ্যারান্টি বহন করছে

মন্তব্য, এখানে...
Share on facebook
Share on twitter
Share on whatsapp
Share on email
অভিজিৎ দাসকর্মকার

অভিজিৎ দাসকর্মকার

৮-ই জানুয়ারি ১৯৮৪ সালে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর (পঃবঃ,ভারত) শহরে জন্মগ্রহন করেন। ২০০১ সালে কবিতা লেখা শুরু। সেই সময় থেকেই কবিতা চর্চায় রয়েছেন। বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়ে চেলেছে। কবির কবিতা গতানুগতিক ধারার বাইরে,নিজস্বতা, নিজের শব্দবন্ধন ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে পাঠককুলকে হ্যালুসিনাজইড করা এবং কবিতার নতুন শব্দের ফোর্স,মেধা আর মননের মিল ও মিশ দিয়ে কবিতাকে নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা। প্রকাশিত বই: ১টি অরাজনৈতিক স্টালিনসন্ধ্যা ( মল্ল সাহিত্য প্রকাশনা), জিরো দশমিক (বই তরণী প্রকাশনা), ভার্জিন লিথোগ্রাফ ( কবিতা আশ্রম), বিবস্ত্র শব্দের soliloquy (৯ নং সাহিত্য পাড়া লেন), মোহনা বিভাজিকা নাভি (সাপ্তাহিক ব্ল্যাকহোল প্রকাশনা)।