রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

যা মননের সঙ্গপিপাসু, যা লুপ্তবিধি মানে না, সুপ্ততা যার আরাধনা নয়, যা বোধে নাড়া দেয় তাই তো সাহিত্য। এ আছে লিখনে, কথনে, ভঙ্গিমায়, নির্জন-ইতিহাসের স্তরে স্তরে। এখন ইতিহাস আরও বদলে যাচ্ছে, বিস্তৃত হচ্ছে। এমন এক জগৎ এখন আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে মিতালী করছে যে নিঃশ্বাস আমাদের মৌলিক সত্তার প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ, কিন্তু একেই সর্বাঙ্গে স্পর্শ করা যায় না। এ এমনই এক ধারা যাকে সীমিত করার কোনো কৌশল নেই- কারণ তার নাম অনলাইন সাহিত্য। আমরা অতঃপর সেই সাহিত্যময়তা সম্পর্কে কিছু জানার বোঝার আয়ের বাসনা রাখি। এবার তাহলে অনলাইন সাহিত্য কী জিনিস, এর বিষয়ে কিছু তত্ত্বতলাশে মন দিই। কারণ তা করাও দরকার- সাহিত্য তো কোনো নিরামিষ বা অদরকারি বিষয় নয়- এর নড়নচড়ন আছে, নিজেকে হাজির-নাজির রাখার প্রণোদনা আছে। ফলে অনলাইন সাহিত্য নিয়ে আপসেআপ কিছু ভাবনা আসে, চৈতন্য হয়। এ নিয়ে কিছু বচন রচনা করা যায়, মানে করার বাসনা হয় আর-কি। এর বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়েও কিছু কথা বলতে মনচায়! প্রথম কথা হচ্ছে, সাহিত্যের কোনো অনলাইন না বেলাইন বা অন্য কোনো লাইন হয় কিনা সেটাই ভাবার বিষয়। কারণ সাহিত্য শব্দটির সাথেই আমাদের নিবিড় এক বন্ধন যুক্ত আছে। সাহিত্য মানে হচ্ছে যা নিবিড়ভাবে আমাদের সহিত যুক্ত হয়, আপন-পরকে সখিতার মতো জড়ায়, এখানে দ্ব›দ্বও বিরাজ করতে পারেÑ তাই তো? এর সাথে শুধু ভাবের যোগাযোগ নয় লীলারও সম্পর্ক আছে, আছে একধরনের মিলনাত্মক বোঝাপড়া। যে কোনো মিলন বা লিপ্ততাই তো সাহিত্য হতে পারে না; তাহলে তো জগতের তাবত ক্রিয়াদিই সাহিত্য পদবাচ্য হওয়ার দাবি রাখে। এর সাথে চিন্তা আসবে, আসবে ইমাজিনেশন, আসবে যথার্থ কার্যধারা। এসবের মিলনের ফলেই যা আমাদের সাথে থাকার মনোবাঞ্ছা রাখে তাই আমাদের সাথে থাকে, তাই দিয়ে সাহিত্য হয়।

সাহিত্য কি নানান মাধ্যমে থাকে না? আমরা যাকে কবিতা, গল্প, দৃশ্যকাব্য বলি তা কি শুধু মুদ্রণের সাথেই জড়িত? তা তা নয়। কথা তো শুধু উচ্চারণে হয় না, না-কথনেও কথা হয়। উচ্চারিত-ভাষার আগেও সাঙ্কেতিক ভাষা ছিল, ভাষার একেবারে প্রাথমিক অবস্থান নৃত্যভাষা তো ছিলই। তাহলে সাহিত্যও এক-এক সামাজিকতায়, রাষ্ট্রনৈতিকতায় এক-এক রকম ছিল। সাহিত্যচর্চার প্রধানতম মাধ্যমই হচ্ছে সাহিত্যপত্র- তথা সাময়িকী, সাহিত্য পত্রিকা। সাহিত্য পত্রিকারই একেবারে দ্রোহী রূপটিই হচ্ছে লিটলম্যাগাজিন। এইসব তো গেল মুদ্রিত শিল্পকথন। এর বাইরেও এখন সাহিত্যধারার নুতন বিন্যাস হচ্ছে অনলাইন সাহিত্য। এই সাহিত্যও প্রধানত চারটি ধারাই চর্চা হচ্ছে। এসব হচ্ছে ১. ফেসবুক, ২. ইন্টারনেট ম্যাগাজিন, ৩. ব্লগ, ৪. ইমেইল।

ফেসবুক থ্রোতে সাহিত্যচর্চা সাধারণত ব্যক্তিপর্যায়েই হচ্ছে। আবার তা গ্রুপ ওয়াইজ যে হচ্ছে না তাও তো নয়। ফেসবুকের সাহিত্যে একধরনের সমকালীনতা থাকে, স্বাধীনতা অধিক থাকে, থাকে নিজেকে উন্মুাক্ত করার একটা দাপুটে প্রকাশ। এর সম্পর্কে মজার এবং বে-মজার দিকটি হচ্ছে নোট বা স্ট্যাটাস হিসাবে প্রকাশিত প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, তাৎক্ষণিক ঘটনার উপর রিএ্যাকশন, চুটকি, ছবি, শুভেচ্ছা বিনিময়, বার্তা বিনিময় ইত্যাদি। তবে ফেসবুকের সবচেয়ে জমজমাট বিষয়টি হচ্ছে কোনো নোটের উপর মন্তব্য, পাল্টামন্তব্য, এমনকি যা নিয়ে তুমুল হট্টগোলও হয়ে থাকে। এর ভিতর দিয়ে অনেক চমৎকার বিষয় যেমন উঠে আসে, তেমনি নানাধরনের যন্ত্রণাও এতে যুক্ত থাকে। কারণ এর সাথে সংশ্লিষ্টরা স্বভাবতই একধরনের যুদ্ধেংদেহি অবস্থার ভিতর থাকে। এতে যে বিষয়টা হয়, সৃজনশীলতার স্বভাবজাত বিকাশ দারুণ ব্যাহত হয়। কারণ এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পাঠককে দারুণ টেনশনের ভিতর রাখে। একটা রুমের ভিতর একটা কি-বোর্ড নিয়ে কয়েকজন মানুষ অপরাজয়ের মন্ত্র নিয়ে যেন যুদ্ধে নামেন। এক্ষেত্রে প্রায়ই দেখা যায়, যেভাবেই হোক যুদ্ধে জয়ী হওয়া লাগবে। মানুষ যে মূলত এবং কার্যত চিহ্নমুখর কলহপ্রবণ প্রাণী তা ফেসবুকে সরাসরি বোঝা যায়। মানুষ তার চলাচলের সর্বত্র চিহ্ন রেখে রেখে যায়!

এরপরই আসে ইন্টারনেটে ম্যাগাজিন চর্চার বিষয়টি। এটি সাহিত্যচর্চার জন্য একটি প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র বলা যায়। একে বিকল্প সাহিত্য সাময়িকী বলার অবকাশ আছে। তবে এর সবচেয়ে বড়ো মজাটি হচ্ছে এখানেও পাঠকের সাথে একধরনের মতবিনিময়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়। তখনই তা একেবারে সফলভাবে সম্পন্ন হতে পারে যখন মূল লেখক এর সাথে জড়িত হতে থাকেন। তবে প্রায়শই লেখককে খুব একটা জড়িত হতে দেখে না। জনপ্রিয়তম অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা হচ্ছে আর্টসবিডিনিউজ২৪.কম (http://arts.bdnews24.com/index.php); এর পরে নাম করা যায় বাংলানিউজ২৪.কম (http://www.banglanews24.com/categorizednews.php?newtype=20), সাহিত্যক্যাফে (sahityacafe.com), এফএনএস২৪.কম (http://www.fairnews24.com/news.php?q=shahitta), রাজনৈতিক (http://rajnoitik.com), সাময়িকী.কম (www.samowiki.com)। আরও কিছু সাহিত্যগ্রুপ আছে যারা অনলাইন ম্যাগাজিনের মতো কাজ করে না তবে ফেসবুকের মাধ্যমে এক-একটা গ্রুপের মাধ্যমে কাজ করে। এদের ভিতর উল্লে­খযোগ্য হচ্ছে গুরুচণ্ডালী, অলসদুপুর, গেরিলা, কফি হাউজ, চা-চক্র, আবুল হাসান, চণ্ডালগুরু, সিএইচটি বিডি, ইত্তেফাক সাময়িকী, দি লাস্ট ট্রেইন, বন্ধু- এ সোশিওলিটারারি গ্রুপ, গল্পকথা, বাংলার লোকগীতিকা, হরতন (আামাগো কালি আমাগো কলম আমাগো কবিতার পাতা), মঙ্গলধ্বনি, বাঙলা আর্ট, শ্রাবণ বুকফ্রেন্ড ইত্যাদি। সাহিত্য-সংস্কৃতির বিস্তার বিভিন্ন এলাকাভিত্তিকও করা হচ্চে। এই যেমন, অসমিয়া সাহিত্যকে বিস্তারের জন্য তাদের চমৎকার কিছু নেটওয়ার্কিং আছে। যেমন: http://www.xahitya.org/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%B0-%E0%A6%95%E0%A7%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%B2/ নিয়ে অসমিয়া সাহিত্যর প্রচুর মাল-মসল­ার সন্ধান পাওয়া যায়। গল্পট-কবিতা-প্রবন্ধ-দৈনন্দিন সাহিত্যচর্চা, লেখক ধরে ধরে লেখা বার করা তো আছেই। তাদের সাথে অনেক কিছুর মতবিনিময়ও চলে। তাদের সাহিত্যিক আর্কাইভ, জ্ঞানপঞ্জি আছে। এমন কিন্তু পশ্চিমবাংলায় আছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাঙালিরা তাদের শিল্পসংস্কৃতির বিকাশ এই ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে করতে পারছে। এই কাজে, এই অন্তর্জাল মিডিয়ায় যত মজা, যত কথা, যত বার্তা সবই টি-টুয়েন্টি ক্রিটেক ম্যাচের মতো। যা কিছু নেয়ার এক ঝটকায় নিয়ে নাও। এখানে দীর্ঘ কোনো সাধন-ভজন নেই। আমরা বড়োজোর ওয়ান ডে ক্রিকেটের মতো প্রবন্ধ, গল্প বা নিবন্ধ কিংবা রাজনৈতিক প্রতিবেদন নোট আকারে পাই। এখানে উপন্যাস, নাটক বা বড়োগল্প-নভলেটের কোনো স্থান নেই।

ব্লগের মাধ্যমেও সাহিত্যচর্চা হয়। তবে তা ফেসবুকের মতো অত সিরিয়াসলি করা হয় বলে মনে হয় না। এখন তো বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকাও তাদের  গ্রুপের লোকজন মারফত সাহিত্যচর্চা করছে। ইমেইলের মাধ্যমেও লেখালেখির পারস্পরিক আদান-প্রদান, বোঝাপড়া হচ্ছে; কাজও করা যাচ্ছে। এমনকি প্রিন্টিং মিডিয়ার সাথে লেখালেখির আদান-প্রদান, মতবিনিময়, নিজেকে ঝালাই-বাছাইয়ের একটা বিষয় কিন্তু এখানে আছে। এমনকি তাতে নিজের স্যাটিসফেকশনও থাকে। কারণ নিজের লেখাটি নিজের মতো করেই প্রুফ দেখেটেখে এটাচড করে পাঠানো যাচ্ছে। ফেসবুকে ইন্ডেক্সিং এর ব্যবস্থাা খুব একটা নেই। যারফলে লেখার সাথে যোগাযোগের সিস্টেমটাও অত প্রখড় নয়। কিন্তু ব্লগের সেই যান্ত্রিক মজাটা আছে। এখানে কিছু রাখা, রাখার ব্যাপারে তত্ত¡তালাশ বেশ আরামের সাথে করা যায়।

অনলাইন সাহিত্য নিয়ে যখন ভাবি, মনে হয় আমি দুর্দান্ত সাহসের মুখোমুখি হয়েছি, এ এমন এক সাহস যার সীমানা, আকার, প্রকার এমনকি চরিত্র নির্ণয় করা যেন মুশকিল! এর তো কোনো সীমানা নেই, জাত পরিচয়ও নেই। মনে হয় এ এমন এ রিয়েলিটি যার সাথে একালের পরিচয় করা নাই। নতুন করে এর পরিচয় নেয়া লাগে। এর সাথে সম্পর্ক করে নিতে হয়। আমরা যে কোনো মাধ্যমে কাজ করতে গিয়েই এর ভিতরকার কোনো না কোনো পদ্ধতিকে বুঝে নিতে হয়। এই যে অনলাইন লিটারেচার, একে জানার জন্য প্রয়োগ করার জন্য কিছু টেকনিকই যথেষ্ট, তারপর নিজের মতো সাহিত্য করা হোক, শিল্প হোক, নিজেকে বাঁচা-মরা যাই হোক, কারও মুরিদ হওয়া লাগে না; কাউকে মুরিদ করতেও হয় না। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় এমন মাধুর্যমুখর নৈরাজ্য মানবসৃজিত স্বর্গেও নেই। এ তাহলে এমন এক ব্যবস্থা যেখানে নিজেকে বিকল্প সত্যসনে বোঝাপড়া করে নিতে হয়।

এর আরেকটা মজার দিক হচ্ছে, এর বন্ধুত্বে কোনো সীমানা নেই, রাষ্ট্র নেই,  পুলিশ-র‌্যাব নেই, অফিসিয়ালি চার্জশিট খাওয়ার গ্যাঞ্জাম নেই। তাহলে এ এমন এক রাজ্য যেখানে সীমানাহীন, নিয়মহীন, ঝামেলাহীন থাকা যায়? বিষয়টিকে অত সরলভাবে দেখার নেই। কারণ কিছু না থাকলে কিছু আছে। দেশহীন দেশের এক নিশানা আছে, সীমানাহীন সীমানা আছে। সেই দেশ আর সীমানা মানুষের স্বোপার্জিত দ্বারাই নির্মিত হচ্ছে। তবে এটা ঠিক এখানে দৃশ্যত শাসন-ত্রাসন নেই, আমলা নেই পুলিশ নেই, জ্বী হুজুরের ভয় নেই, পরিচিত কাঠামো নেই, স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির মুখস্থ শিক্ষা নেই, মসজিদ-মন্দির-গির্জা-প্যাগোডা নেই। যা আছে তাকেই নিজের মতো করে গড়ে নেয়া আছে। সেই গড়ে নেয়ার ভিতরই অনলাইন লিটারেচারের আসল জারিজুরি। এখানে মুুদ্রিত অক্ষরের সাথে টেকনিকেল বোঝাপড়াটা করতে হয় না; মনিটরই এখানে রাজ-দরবার। যত কথা, যত, গান, হাসি-কান্না, ক্রোধ তার সবই এইটুকু শাদার বিপৃুল আয়োজনে করে দিতে হয়। তবে জনান্তিকে বলে নিতে হয়, এখানে শাসন আছে, আড়িপাতা আছে, আইন আছে, হস্তক্ষেপ থেকে শুরু করে মস্তক্ষেপ, খবরদারির তুমুল নজির আছে। 

এই যে লুপ্তজ্ঞানের মতো অত কথা, বার্তা, কাইজা-ফ্যাসাদ একে একে প্রচারিত হয়, লালিত-পালিত, কিংবা চরম উপেক্ষিত হয়, এর ভিতরের দিয়ে মানুষ কি তার মানুষতা বজায় রাখতে পারছে? তাহলে এবার আমরা যে মানুষতা চিনি, তা আসলে কেমন? তা কারা এই মানুষতার অহি নাজেল করল? তা নাজেল যদি করেই থাকে, তা কারা পাশ করল, জারি করল? এরসবই চলমান জীবন থেকে পাওয়া কতক ধারণা হিসাবেই ধরা যায়। সেই ধারণার মৌলভিত্তি হচ্ছে জেনারেশন থেকে জেনারেশন চলে আসা মানুষের সমাজে বেড়ে উঠা কতক নিয়ম। সেই নিয়ম বা মানুষের সেই বাঁধন অনলাইন লিটারেচারের ফলে কদ্দূর বহাল থাকবে সেটা কিন্তু ভেবে দেখার বিষয়। এই যে মানুষের জৈবিকতা, জাগতিকতা, মানুষের সাথে মানুষের মানবিক পরম্পরা তা কি বহাল থাকবে। মানুষের যে নিজস্ব জায়গা আছে, নির্জনতার মধুর জগৎ আছে তা কি থাকবে? নাকি একটা যন্ত্রের কাছে সে নতি স্বীকার করা একজন বদ্ধ-মানুষ হয়ে যাচ্ছে। যে জীবন অনেক জীবনের ভিতর থেকে রূপ-রস-স্পর্শ নিয়ে নিসর্গে কোলাহল নিয়ে বাড়ে, আবার হয়ত নুয়ে থাকে, ফের বাড়ে, বা তার ভিতরকার অন্য লীলাময়তাই মজেÑ এইসবের বিন্যাসটা কেমন হবে? মানুষ কি সেই সব মানুষ থাকার কোনো জো আছে? সে তো ফার্মের মুরগীর মতোই দৃশ্যত রূপের বাহার নিয়ে বড়ো হবে; কিন্তু প্রকৃতির ভিতর আরেক বিকল্প প্রাকৃতিক রূপের যে স্দা-গন্ধ-মোহনীয়তা থাকার কথা, তা তো পাওয়া যাবে না। যাবতীয় ক্রোধ, ঘৃণা, লজ্জা, সার্বিক আয়োজন একটা যন্ত্রের কাছে বন্ধক দিতে সে বাধ্য হচ্ছে। এই যে বন্ধকি-জীবন, এই যে যন্ত্রমুখর চলাচল এর শেষ কী হবে? এর রেজাল্টই বা কি?

অনলাইন সাহিত্যচর্চার সাথে পাঠক বা লেখকের বিহেভিয়ারের একটা সম্পর্ক তো আছেই। এখনকার যারা লেখক বা পাঠক তাদের সাথে এর সম্পর্ক তো খুব পুরোনো নয়। যারফলে এর সাথে কন্ডিশনাল রিফ্লেক্স নানাভাবে হচ্ছে। যারা এর সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন তাদের তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। একসময় আমরা মানুষেরা গুহাচিত্রের থ্রোতে গল্প বা ঘটনা তৈরি করতাম। জীবনের নানা বাঁকবদলও এর দ্বারা হতো। প্যাপিরাস তা তালপাতায় একসময় আমাদের পূর্বজনরা লিখতেন। তার বাদে এল কাগজের ব্যবহার। এখন সেই স্থলে আসছে অনলাইন সৃজনতা। একসাথে এর সাথে অনেকের সাথেই একটা রিলেশন গড়ে ওঠছে।  তাৎক্ষণিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ব্যাপার তো আছেই। কিন্তু এর সাথে অভ্যস্ততার দরুণ নানান সমস্যা হচ্ছে। এমনকি লেখক বা পাঠকের ভিতর জৈবিক অস্তত্বি তৈরিও হতে পারে। আর যারা অনলাইনের জেনারেশন হয়ে গেছে তাদের কাহিনী আলাদা, জীবন আলাদা, রিফ্লেক্স আলাদা। এমনকি তাতে সময়, অবহিকরণের বিশাল সুবিধা, অর্থনৈতিক সাশ্রয়, পরিবেশ উপযোগী (বাঁশ, ক্যামিকেলের ব্যবহার, যন্ত্রের ব্যবহার) ব্যবস্থার বিস্তার হচ্ছে। 

অনলাইনে আমাদের তো মজার লেশষ নেই। আমরা এখানে নিজের মতো করে রাষ্ট্র বানাই, ফের ভাঙতেও পারি; কারও কাছে প্রায়শই জবাবের থোয়াক্কা করা লাগে না। আমাদের আশপাশে কত যে নজরদারির বাহাদুরি আছেÑরাষ্ট্র, ধর্ম, সমাজ, পরিবার, এমনকি নিজের নিজের শ্বাস-প্রশ্বাসও নিজেকে শাসাতে চায়। আমরা মূলত হুমকিধঅমকির ভিতর বেড়ে উঠা মানুষ। এমন কোনো সময় আমরা পাইনি যেখানে হুমকি বলতে কিছু নাই। আমাদের জীবন আসলে শাসন-ত্রাসনের জীবন। এইখানে, এই জমিনে নিজে নিজের মতো করে দেখা, সৃজন করা অত্যন্ত কঠিন-জটিল এক ব্যাপার। এই যে লেখার ঝামেলা, প্রকাশের ঝামেলা, এমনকি এজন নবীনের হাতমস্ক করার হাজারটা ফ্যাকরাÑ অনলাইন সাহিত্য সেখানে বড়োসড়ো এক-একটা খোলা মাঠের মতোই কাজ করছে। তবে সমস্যা হচ্ছে, নিজের ভিতর নিজেকে ঝালাই-বাছাই করে দেখার প্রবণতা অনেক কম। যেভাবেই হোক, কিছু একটা হলেই প্রকাশের তীব্র বাসনা জাগে, সেই বাসনাকে বন্ধুসকলের কিছু সাদামাটা মন্তব্যে রাঙানোর খায়েস থাকে। নিজের পছন্দের বিপরীত মতামতকে সাইজ করার প্রবণতা অতি তীব্র এখানে। মানুষের ভিতর যে সর্বগ্রাসী হওয়ার প্রবণতা কোথাও না কোথাও লুপ্ত থাকে, তাই যেন সবিস্তারে সৃজিত হয়। আবারও বলতে হয় এতে সৃজনের সামগ্রিক নিবিড়তা দারুণভাবে ব্যাহত হয়। ইন্টেরেকচুয়েল হেজিমনি ডেভলপ করার সমূহ সম্ভাবনা এখানে বিরাজ করে। কারণ একটা স্বাধীন কী-বোর্ড আমার ব্যক্তিত্বকে চূড়ান্ত স্বাধীনতা, প্রকাশের দারুণ ক্ষেত্র নির্মাণ করছে।

এই যে অনলাইন সাহিত্যচর্চা এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিজেকে কন্ট্রোল করার ক্ষমতা অর্জন, নিজের সৃজনশীলতা সম্পর্কে নিজের সাথে নিত্য বোঝাপড়া করা দরকার। এটি হওয়া দরকার সেল্পসেন্সরশিপের অতি প্রয়োজন একটা ব্যবস্থা। কিন্তু কথা হচ্ছে রিমোট কন্ট্রোলটির ব্যবহার প্রায়শই সবকিছু দখলে নেয়ার প্রবণতার ভিতর রীতিমতো কম্পমান থাকে। সত্যকে চর্চামুখর সত্যের ভিতর দেখা দরকার। এ তো গেল অনলাইনে সাহিত্য চর্চার দিক, কিন্তু এর মারফত শিল্প-সাহিত্য-সংস্তৃতি-ফিলসফি-ইতিহাসসহ বিভিন্ন টেকনিকেল নলেজের তরতাজা জ্ঞান। এও সাহিত্যচর্চাকে বিকশিত করার অতি দরকারি এক কাজ। তাই হয়ে আসছে। এভাবেই নানাদিকে এর কর্মযজ্ঞ যাপিত হয়। কথাক্রমে আরও বলতে হয় যে, অনলাইন সাহিত্য একা চলে না। বহুজনের ভিতর দিয়ে বিশাল এক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলে। নিজের দেখার জায়গা অনেক বেড়ে যায়। তাতে সৃজনশীলতার সাধনা আর আগের মতো থাকে না, নিজেকে তাৎক্ষণিক আবিষ্কারের নেশা থাকে। সেই নেশায় আবার অন্যকে জারিত করা যায়। একা থাকার ক্ষেত্র আর থাকল না। এ আলাদা এক জগৎ তৈরি করে রাখারও জায়গা। কে কোথায় আছেন, ইউরোপ-আমেরিকা-প্রাচ্য-শিলিগুঁড়ি-কলকাতা কিংবা পাশের বাসার মানুষজন মিলেই বিশাল এক রাজত্ব চলে এখানে। বিদেশ-বিভুঁই আলাদা করে দেখার কিচুই থাকে না। মানুষ তার একাকিত্বের যন্ত্রণার ভিতর আলাদা এক জগৎ খুঁজে পান। অনলাইন সাহিত্যচর্চার আরও দরকারি দিক হচ্ছে এর মাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন সাহিত্যমাধ্যমের সাথে সরাসরি যোগাযোগ। যেমন প্রতি শুক্রবার ভোরেই অনেকগুলো সাহিত্য সাময়িকী দেখে নিতে পারছি, এর চর্চা হচ্ছে, কেউ না কেউ চাইলে এর সাথে মোকাবেলা বা বোঝাপড়াটাও করে নিতে পারে। এখানে শুধু পাঠের বিষয়টিই আসছে না, এর সাথে একটা রিলেশন করে নেয়া যায়, এমনকি খানিক ঝালাই করে নেয়ার ব্যাপারও আছে। বিভিন্ন লিঙ্কের মাধ্যমে কখনও কখনও কোনো মনমতো লেখা পাঠ করা যায়, মতবিনিময় চলে। এই যে এভাবে মনবিনিময়ের একটা ব্যাপার তা তো অনলাইন সাহিত্যের অতি দরকারি একটা বিষয়।

সত্য তো এক্কেবারে পাই টু পাই হিসাব করে মেলানো কঠিন, অনেককাল এমন বিশ্বাস চালু ছিল যে ছাপার অক্ষরে যাই ছাপা হোক তাই সত্য। মুদ্রণে ছাপা সৃজিত হয়, এমন বিশ্বাসে ধস নামের অনেক আগেই মুদ্রিত অক্ষরের কপালে অনেক ঝামেলা আসা শুরু করল। এখন সত্য কমপিউটারের পর্দায় অনবরত আসা-যাওয়ার পালা। যাহা সত্য রচিবে তুমি, ইহা রবিঠাকুরের কথনস্টাইল, এখন সত্য বড়ো ঝামেলায় আছে। দশজনের কথার ছোটে সত্য নিজেরে প্রচারের আগে নিজেরেই যাচাই করে নেয়। একেই বলে সাহিত্যে কলির যুগ। সেই যুগে কষ্টিপাথরে সমানে ঘষাঘষি চলে। এই যে সাহিত্যের কথনের যাপনের এই যন্ত্রণা এর নাম বোধ হয় সহিত্যের তাৎক্ষণিক সাংাবদিকতা। এর ব্যাখ্যা কথা চালাচালি কোথায় যে গিয়ে নাও ভিড়ায়? এখন বুদ্ধির যাবতীয় অন্দরমহল থেকে বুদ্ধিকেই দেখাদেখি চলছে। বুদ্ধি হচ্ছে চেতানা ধরনের বিষয়, যেখানে যাবতীয় ধর্ম-কর্মের ব্যাখ্যা, চলাচল, আচার-ব্যবহার নিজে ঠিক করতে পারবে। এর জন্য বাইরে থেকে উকিল-মোক্তার খরচ করে আমদানির প্রয়োজন অনেকটাই ফুরিয়ে গেছে। কারণ এই যে ইন্টারনেট সাহিত্য, এই যে কমেন্টের ছড়াছড়ি, এতেই বারোরকমের সত্য প্রকাশিত হয়, তাদের ভিতর থেকে গড়পরতা বিবেচনা সহযোগে নিয়ে একটা জিনিস দাঁড় করালেই চলে। এতে যে সাহিত্য সৃজন হয় তাতে কিন্তু অংশীদারিত্ব আরও বেড়ে যায়। এমনিতেই এই কথা চালু আছে যে পৃথিবীতে কিছুই নবতর সৃজন নহে, সবই পুরাতন, যে যার মতো মাল-মসল­া যোগ করছে। এখন তো এই প্রক্রিয়ায় আরও সরাসরি দাবিদার বাড়ছে। এমনকি এখন এমনও নোট দেখা যায় যখন ঘোষণা দেয়া হয় যে কিছু আলোচনার পর এর সামগ্রিক প্রকাশ্য রূপ দেখা যাবে। এই যে এইভাবে অপরের মাল-মসল­া সহযোগে নিজের ঘরের জিনিস রাঙানোর আচরণ লক্ষ করা যায়, তা কি শিল্প-সংস্কৃতির নিগূঢ় বিকাশের পক্ষে উপযোগী হয়। কী যে হয় তাও বলার সময় ক্রমে নাশ হয়ে যাচ্ছে!

এখন কথা হচ্ছে, অনলাইন লাইনচর্চার প্রবণতা বা বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই শেষ-মন্তব্যটি করা মুশকিল। তবে একটা বিষয় হচ্ছে এর যেমন সীমাবদ্ধতা, তেমনি আছে নিবিড়ভাবে সৃজনশীলতার সাথে যুক্ত হওয়ার নানামুখী টানাপড়েন। এটা ঠিক অনলাইন হচ্ছে একেবারে তাৎক্ষণিক সাহিত্যমুখরতার টাটকা জায়গা। এখানে কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিকল্প সাহিত্যচর্চার কাউকে পাত্তা না নিয়ে একেবারে ব্যক্তিপর্যায়ের সাহিত্যটা করা যায়। কারণ এখানে নিজের গল্প/কবিতা/প্রবন্ধ লিখে ফেসবুকে একেবার সাথে সাথে পেস্ট করে দেয়া যায়, তার রিএ্যাকশন পাওয়া যায়, পাল্টা রিঅ্যাকশন জানানো যায়। এ নিয়ে বিস্তৃত চর্চাও হতে পারে। তবে সবচেয়ে মুশকিল হচ্ছে, মন্তব্য, পাল্টামন্তব্যের কোনো কুল-কিনারা নাই। কখন কে যে কি লিখে ফেলে বা আক্রমণ তা একটা ব্যাপার বটে। তবে সবচেয়ে মুশকিল তখনই হয় যখন বেনামে কেউ তুমুলভাবে বেহুদা মন্তব্য করতে থাকে। অবশ্য তাকে ফ্রেন্টলিস্ট থেকে ডিলিট করা যায়, তার মন্তব্য ব্লক করা যায়। এমনকি নিজেকেও সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা যায়। তবে আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে এট্ইা অনলাইন সাহিত্যের সবচেয়ে বিব্রতকর দিক। কারণ তখন এমনও হয় যে যেন নিজের নিঃশ্বাসকেও বিশ্বাস করা যায় না। কে যে কার শত্রু, না মিত্র তা বোঝা মুশকিলই। আবার কখনও কখনও নানাভাবে যখন মন্তব্য করা হয়, তা তো আর ফিরিয়ে আনা যায় না; বা অন্যভাবে লেখা যায় নাÑ কারণ সেটাই তো লেখকের একটা প্রকাশ হয়ে গেল। ফলে সেই টুকরো মন্তব্য বা প্রতিমন্তব্যের ভিতর দিয়ে একটা বড়োসড়ো লেখার বীজই হয়ত আজীবনের জন্য হারিয়ে গেল। আবার এমনও দেখা যায়, এই ফেসবুক বা ব্লগ বা নেট-ম্যাগাজিনের কারও একটা মন্তব্য দিয়ে অন্যজন হযত অন্য মিডিয়ায় বিশাল কর্মযজ্ঞ ফেঁদে বসল। এসবই ইন্টানেট সাহিত্যের সবচেয়ে বাজে দিক। আর সবচেয়ে মজার তবে ঝুঁকিময় দিক হচ্ছে, নিজের কথা নিজের মতো করে বলা যায়।

অনলাইনের এই যে বিচরণ, লাফঝাফ, এত বাহাদুরিÑ এর কারণ কি? কেন কেন বার একে নিয়ে অত গবেষণা? এর কি মগজ আছে? আছে আনন্দ হাসি ব্যাকুলতা সরবতা? তার যে স্মৃতি আছে তাও তো মনুষ্যবাহিতÑযন্ত্রত্বই সব নাযেল করছে। এর মগজ নেই, সৃজনশীল অঙ্গ-অণুঅঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নেই। তাহলে এর যা আছে, যা দিয়ে মানুষের চিরচেনা নির্জনতা, একাকিত্বকে তছনছ করে দিচ্ছে, মগ্নচৈতন্যে হায়েনার মতোই হানা দিচ্ছেÑ এসবের দায়ভারও তো ইন্টারনেটকে দেয়া যায় না। তারপরও একে নিয়ে মানুষের উল্লাস উচ্ছ্বা এমনকি হাঁ-হুতাশেরও শেষ নেই। আসলে সবখানেই জারি থাকতে পারে মানুষের তুমুল ঈশ্বরত্ব, এর সবই নিজেকে রচনার নানান পন্থা মাত্র। অনলাইন সাহিত্য নিরন্তর যাত্রা চালু রাখতে সক্ষম হচ্ছে। যতই সময় যাচ্ছে, এর ভিতরকার আলাদা এক শক্তি আধিপত্য এমনকি ইন্টেলেকচুয়াল আধিপত্য বজায় রাখতে পারছে। এর বড়ো শক্তি মানুষের সহজাত শক্তিকে লালন করা, একে ক্রমাগত বিকল্প যোজনায় পরিণত করা। এ এক দাপুটে জাদু যেন, এ জাদুতে নিজেকে নিজেই বহন করার মজা আছে, শক্তি আছে, অস্তিত্ব প্রকাশের মাদকতা আছে। যারফলে এর ভিতর দিয়ে হিটলারিজম ডেভলপ করার চান্সও যে আছে তাও আমাদের রাখা দরকার। কাজেই রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার কর্তৃক নিয়ন্ত্রের আগে প্রয়োজন সেল্ফসেন্সরশিপ। এর ভিতর দিয়ে অনলাইন সাহিত্য ক্রমাগত নতুন দিগন্তকে নতুনতম দিকে ছড়িয়ে দেবে।

২৪.৭.২০১১

মন্তব্য, এখানে...
Share.

জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার জ্ঞানপুর গ্রামে, মামাবাড়িতে ১৯৬৩ সালে। সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে উজ্জীবিত বাজিতপুর এবং নাটকপাগল গ্রাম সরিষাপুরে জন্মগ্রহণের সুবাদে ছোটবেলাতেই সাংস্কৃতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়। স্কুল-কলেজের ওয়াল ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়। তার ধারাবাহিকতা ছিল মেডিকেল কলেজেও। ২য় বর্ষে পড়াকালিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাহিত্য বিভাগ থেকে স্বরচিত গল্পে ৩য় স্থান অধিকার করেন। এটিই খুব সম্ভবত কোন সাহিত্য রচনার জন্য প্রথম স্বীকৃতি লাভ। প্রথম গল্প প্রকাশ হয় ১৯৯৮ সালে মুক্তকন্ঠ-এ। প্রকাশিত গল্পের নাম ‘জলে ভাসে দ্রৌপদী। পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে ৫টি গল্পগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, ৪টি গদ্য/প্রবন্ধ গ্রন্থ এবং ১টি সংকলিত সাক্ষাৎকার। তাঁর প্রকাশিত বই: মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, জাগৃতি প্রকাশনী)। পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০০৬, মাওলা ব্রাদার্স)। স্বপ্নবাজি (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ)। কতিপয় নিম্নবর্গীয় গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রæয়ারি ২০১১, শুদ্ধস্বর)। উপন্যাসের বিনির্মাণ, উপন্যাসের জাদু (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১১, জোনাকী)। যখন তারা যুদ্ধে (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, জোনাকী)। গল্পের গল্প (গদ্য/প্রবন্ধ, একুশে বইমেলা ২০১৩, জোনাকী)। কথাশিল্পের জল-হাওয়া (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, শুদ্ধস্বর)। ভালোবাসা সনে আলাদা সত্য রচিত হয় (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, জোনাকী)। দেশবাড়ি: শাহবাগ (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, শুদ্ধস্বর)। কথা’র কথা (সংকলিত সাক্ষাৎকার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, আগামী)। জয়বাংলা ও অন্যান্য গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, জোনাকী)। কমলনামা (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বেঙ্গল)। হৃদমাজার (উপন্যাস, ডিসেম্বর ২০১৫, অনুপ্রাণন প্রকাশন), খুন বর্ণের ওম (উপন্যাস, ফেব্রæয়ারি ২০১৮, ঘোড়াউত্রা প্রকাশন)। সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘কথা’ প্রকাশিত সংখ্যা ৯টি (২০০৪-২০১৪)। ২০১১ সালে ‘কথা’ লিটল ম্যাগাজিন ‘শ্রেষ্ঠ লিটল ম্যাগাজিন প্রাঙ্গণ’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি (মরণোত্তর)।

Leave A Reply