Author: দেশলাই টিম

ছেলোবেলা থেকেই আমি সিনেমাসক্ত। আব্বা তাঁর জীবনের এক পর্যায়ে চলচ্চিত্র ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন, অর্থাৎ একটি সিনেমা হলে তাঁর শেয়ার ছিলো। সেই সুবাদে অল্প বয়সেই প্রচুর ছবি দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম বিনা পয়সায়। কখনো কখনো আব্বার অজ্ঞাতসারে সিনেমা হলে ঢুকে পড়তাম, ভয়ে বুক দুক দুক করতো, পাছে আব্বার নজরে পড়ে যাই। গেট কিপারদের সহযোগিতা না পেলে আব্বার সর্তক দৃষ্টি এড়ানো সম্ভব ছিলো না। আবার কোনো কোন দিন আব্বা স্বেচ্ছায় আমাদের নিয়ে যেতেন সিনেমা হলে। এমন কি কোন কোন রাত ভোর করে দিয়েছি ছবি দেখে। সেকালে সারা রাতব্যাপী ফুল সিরিয়াল চালানোর রেওয়াজ ছিলো। কত ছবি যে দেখেছি তার কোনো লেখাজোখা নেই। কোনোরকম…

পড়ুন

ভাই খসরু, যে বয়েসে ‘গরু চতুস্পদ জন্তু, ইহাদের দুইজোড়া পা ও একজোড়া শিং আছে, ইহারা খাস খায়-’ ইত্যাদি রচনা লিখতে বসে নম্বর তোলার চিন্তায় লোকে ভেবে ভেবে রোগা আধমরা হয়ে যায়, সে বয়েস আমার অনেক আগেই মেঘে মেঘে পার হয়ে গেছে। আমাদের এই পোড়াকপাল দেশের প্রতি বছর বিদেশী মুদ্রা অর্জনের যে সামান্য কোঠাটি আছে তার অর্ধেক জুড়ে রেখেছে পাট বলে যে সোনালী তন্তুটি, এবং লুণ্ঠিত সর্বস্বান্ত হাজার হাজার বিধস্ত গ্রামের প্রায় পঞ্চাশ লক্ষ নাঙ্গাভূখা পরিবার যে চাষাবাদের সঙ্গে জলকাদার রক্তমাংসে একাকার, এমনকি সে সম্পর্কেও আমার সামান্যতম স্কুলপাঠ্য রচনা লেখার যোগ্যতা নেই। এ ব্যাপারে আমার ছেলেমেয়েদের কাছে অনেক আগেই আমি অপদার্থ…

পড়ুন

এই কথা আর নতুন করে বলবার দরকার নেই সাহিত্য এবং চলচ্চিত্র দুটি আলাদা শিল্প। কিন্তু কতখানি আলাদা, দুই ভাইয়ের মতন? দুই বন্ধু বা প্রতিবেশীর মতন? অথবা দুই প্রতিযোগী? চলচ্চিত্র প্রথমে এসেছিল শিশুর মতন সাহিত্যের কোলে চেপে। শুধু নড়া চড়া কিংবা ছোট ছোট স্ক্রিপ্টের বদলে কাহিনী চিত্র এলো, তখনই ডাক পড়লো সাহিত্যিকদের। হলিউডে গিয়ে বসতি নিলেন দেশ বিদেশের লেখকরা। এতে বায়োস্কোপ জগত লাভবান হয়েছে নিশ্চিত কিন্তু সাহিত্যের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। উদহারণ হিসেবে বলা যায়, এফ স্কট ফিটজেরাল্ডের মতন সূক্ষ্ম রুচি লেখকের মাথা খেয়ে ফেলেছে হলিউড। এরিক মারিয়া রেমার্ক জার্মান ছেড়ে হলিউডে আসবার পর আর কোনো স্মরণীয় উপন্যাস লিখতে পারলেন না। বোম্বাই…

পড়ুন

“ধ্রুপদী”কে চলচ্চিত্র নিয়ে লেখার কথা যখন কবুল করেছিলেন, তখন থেকে মনে মনে বিচলিত। চলচ্চিত্র নিয়ে লেখার কোন অধিকার তো নেই আমার। দর্শক হিসাবে চলচ্চিত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয়ও হারিয়ে ফেলেছি। বছরে একটি ছবি দেখা হয় কিনা হয় সন্দেহ। এমন অবস্থায় কি বলতে পারি। পৃথিবীখ্যাত যে সব চলচ্চিত্র মানুষকে প্রেরণা দেয়, তারই বা কয়টি দেখেছি। তাই কিছু টুকরো স্মৃতি ও ভাবনা ও চিন্তা লিপিবদ্ধ করা ছাড়া উপায় নেই। “ধ্রুপদি” ঢাকা থেকে বেরোচ্ছে। আমরা যখন ঢাকায়, জিন্দাবাহার লেনে মামাবাড়িতে শৈশব কাটাতে যেতাম, তখন দিদিমার সঙ্গে আদরের নাতনি আমি, আর্মানীটোলা পিকচার হাউজে ছবি দেখতে যেতাম। এখনকার দুই পারের বাংলাভাষী ছেলেমেয়েদেরই অবাক লাগবে, ছবি দেখার…

পড়ুন