Author: কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলার জ্ঞানপুর গ্রামে, মামাবাড়িতে ১৯৬৩ সালে। সংস্কৃতি ও রাজনীতিতে উজ্জীবিত বাজিতপুর এবং নাটকপাগল গ্রাম সরিষাপুরে জন্মগ্রহণের সুবাদে ছোটবেলাতেই সাংস্কৃতিক জীবনের হাতেখড়ি হয়। স্কুল-কলেজের ওয়াল ম্যাগাজিনে লেখালেখির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চার প্রাথমিক পর্যায় শুরু হয়। তার ধারাবাহিকতা ছিল মেডিকেল কলেজেও। ২য় বর্ষে পড়াকালিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাহিত্য বিভাগ থেকে স্বরচিত গল্পে ৩য় স্থান অধিকার করেন। এটিই খুব সম্ভবত কোন সাহিত্য রচনার জন্য প্রথম স্বীকৃতি লাভ। প্রথম গল্প প্রকাশ হয় ১৯৯৮ সালে মুক্তকন্ঠ-এ। প্রকাশিত গল্পের নাম ‘জলে ভাসে দ্রৌপদী। পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়েছে ৫টি গল্পগ্রন্থ, ৪টি উপন্যাস, ৪টি গদ্য/প্রবন্ধ গ্রন্থ এবং ১টি সংকলিত সাক্ষাৎকার। তাঁর প্রকাশিত বই: মৃতের কিংবা রক্তের জগতে আপনাকে স্বাগতম (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৫, জাগৃতি প্রকাশনী)। পদ্মাপাড়ের দ্রৌপদী (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০০৬, মাওলা ব্রাদার্স)। স্বপ্নবাজি (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ)। কতিপয় নিম্নবর্গীয় গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রæয়ারি ২০১১, শুদ্ধস্বর)। উপন্যাসের বিনির্মাণ, উপন্যাসের জাদু (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১১, জোনাকী)। যখন তারা যুদ্ধে (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, জোনাকী)। গল্পের গল্প (গদ্য/প্রবন্ধ, একুশে বইমেলা ২০১৩, জোনাকী)। কথাশিল্পের জল-হাওয়া (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৩, শুদ্ধস্বর)। ভালোবাসা সনে আলাদা সত্য রচিত হয় (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, জোনাকী)। দেশবাড়ি: শাহবাগ (উপন্যাস, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, শুদ্ধস্বর)। কথা’র কথা (সংকলিত সাক্ষাৎকার, ফেব্রুয়ারি ২০১৪, আগামী)। জয়বাংলা ও অন্যান্য গল্প (গল্পগ্রন্থ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, জোনাকী)। কমলনামা (গদ্য/প্রবন্ধ, ফেব্রুয়ারি ২০১৫, বেঙ্গল)। হৃদমাজার (উপন্যাস, ডিসেম্বর ২০১৫, অনুপ্রাণন প্রকাশন), খুন বর্ণের ওম (উপন্যাস, ফেব্রæয়ারি ২০১৮, ঘোড়াউত্রা প্রকাশন)। সম্পাদিত লিটল ম্যাগাজিন ‘কথা’ প্রকাশিত সংখ্যা ৯টি (২০০৪-২০১৪)। ২০১১ সালে ‘কথা’ লিটল ম্যাগাজিন ‘শ্রেষ্ঠ লিটল ম্যাগাজিন প্রাঙ্গণ’ পুরস্কারে পুরস্কৃত হয়। ২০১৫ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি (মরণোত্তর)।

পর্ব এক. শাওনের মেঘ জলস্তম্ভের মতো আকাশে ঘুরপাক খায়; ঘষে ঘষে ওড়ে। তখনো মাঠটি কাদায়, জলে আর মানুষের হুড়াহুড়ির দাপটে এলোমেলো হয়ে আছে। মিহি-তরিকার বৃষ্টি আর প্যাক-কাদার গন্ধের ভিতরই লাইন করে দাঁড়ায় ওরা। মিছিলের এ লোকগুলো বহরমপুরের রকিব উদ্দীন প্রফেসরকে মুক্ত করতে এসেই এখানে আটকা পড়ে। এখন তারা অপেক্ষা করে এবং তাদের এ অপেক্ষার নানাবিধ পর্যায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস নেয় বলেও ধরা যায়। সেই শ্বাসের সঙ্গে ঘাম লেপ্টে রক্তবিন্দুর মতো নোনতা ঘ্রাণ ছড়ায়। ওদের শরীরটা ঝুঁকে আসে। শিরা-উপশিরা আর হাড়-মাংস ক্রিয়াহীন হতে থাকে। কাদা ওঠে আসে পায়ের পাতা, পা-হাঁটু ছাড়িয়ে লুঙ্গিতে। মিছিলের লোকগুলোকে এসব চিহ্ন ধরেই শনাক্ত করায়। মহকুমার বড়োসাহেব আর পুলিশের…

পড়ুন

যা মননের সঙ্গপিপাসু, যা লুপ্তবিধি মানে না, সুপ্ততা যার আরাধনা নয়, যা বোধে নাড়া দেয় তাই তো সাহিত্য। এ আছে লিখনে, কথনে, ভঙ্গিমায়, নির্জন-ইতিহাসের স্তরে স্তরে। এখন ইতিহাস আরও বদলে যাচ্ছে, বিস্তৃত হচ্ছে। এমন এক জগৎ এখন আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে মিতালী করছে যে নিঃশ্বাস আমাদের মৌলিক সত্তার প্রয়োজনীয় অনুসঙ্গ, কিন্তু একেই সর্বাঙ্গে স্পর্শ করা যায় না। এ এমনই এক ধারা যাকে সীমিত করার কোনো কৌশল নেই- কারণ তার নাম অনলাইন সাহিত্য। আমরা অতঃপর সেই সাহিত্যময়তা সম্পর্কে কিছু জানার বোঝার আয়ের বাসনা রাখি। এবার তাহলে অনলাইন সাহিত্য কী জিনিস, এর বিষয়ে কিছু তত্ত্বতলাশে মন দিই। কারণ তা করাও দরকার- সাহিত্য তো…

পড়ুন

মঈনুল আহসান সাবের কথাশিল্পচর্চা করছেন সাত দশক থেকে। তিনি লেখালেখির শুরু থেকেই সময়কে একটা দরকারি ফ্যাক্টর হিসাবে ধরছেন, এ তার এক সাধনা বটে! আমরা যখন ২০১৩ এর বইমেলায় প্রকাশিত তার উপন্যাস এখন পরিমল পড়তে থাকি, তখন আমাদের কারও কারও মনে হতেও পারে যে তিনি যেন এই সময়টার যাবতীয় ব্যয়ভার পরিমলের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা চলমান হিস্টরির ভিতর যখন চরিত্রটাকে দেখি তখন মনে তাকে একজন ধর্ষক হিসাবেই ধরব। সাবেরের উপন্যাসেও তা আছে বটে। তবে সাবের একজন কথাশিল্পী হিসাবে পরিমলকে আমাদের এ নষ্টভ্রষ্ট সময়ের একজন জলজ্যান্ত প্রতিনিধি হিসাবেই দেখাতে চেয়েছেন। আমরা উপন্যাসটির নির্মাণ কৌশল খানিক দেখে নিই। আমাদের কেউ কেউ বলেন, ব্যক্তিবিকাশের…

পড়ুন

ইস্তেহার সহযোগে সাহিত্যনামার বাসনা/কামনা অনেকদিন থেকেই চলছে, সেটা শুধু দাদাবাদ বা গাণ্ডীব-এর ইস্তেহার নয়, এটি একটা মনসংযোগের ব্যবস্থাপনা। এই যেমন অগ্রবীজ’র প্রতিটি সংখ্যায় একটা করে ইস্তেহার জাতীয় কিছু নেয়ার প্রক্রিয়ায় তারা থাকেন। এখন যে সংখ্যাটি আমার হাতে, ৪র্থ বর্ষ ১ম সংখ্যা, এতেও ইস্তেহার জাতীয় ঘোষণার ব্যাপার আছে। আমরা এখানে নানান জাতের বাংলাকে দেখে, বাঙালিকে পরখ করেছে; ভাষাজনিত মীমাংসায় তারা এভাবে হয়ত আসতে চায়। তাই তারা নানাজনের কথা শুনছেন। সেই কথাতে বরাক এলাকা, অহমিয়া, বর্হিবাংলা, পশ্চিমবাংলা যেমন আছে, বাংলাদেশের বাংলা আছে আরও বেশি করে। এখন এ প্রশ্ন করা যায়- বাংলাদেশের সুর্নিদিষ্ট বাংলা ভাষা আবার আছে নাকি? সেটা না থাকলেও একটা মেজাজ…

পড়ুন

জাহেদ মোতালেব সাধারণত লিটল ম্যাগাজিনেই গল্প লিখে থাকেন। খেলাবুড়া তার প্রথম গল্পগ্রন্থ। এতে গল্প আছে ৮টি- ‘গবিয়াল’, ‘খেলাবুড়া’, ‘টেংরাকাহিনী’, ‘বউ পালানো বিরহ’, ‘বিবাহ’, ‘কালোপাহাড়’, ‘বানরতাড়িত’, ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’, ‘আঁধা’। আমাদের চেনাজানা অনেক ধারণাই গল্পকার ভাংতে চেয়েছেন তার গল্পে – বলা যায় ছোটগল্পের ছকে-বাধা-জগৎ বেশ কিছুটা অচেনা হয়। গল্পের ট্রাডিশনাল ফর্ম থেকে পাওয়া সেই ধারণাসমূহ – যেমন, ভূমিকা, কাহিনীর উলে­খ, ক্লাইমেক্স, শেষে একধরনের উপদেশ দেয়া ইত্যাদির তেমন ধার ধারেননি তিনি। তবে তিনি এ ধরনের সাজানো-গুছানো ছক থেকে ষোল আনা বেরিয়ে আাসতে পেরেছেন, তাও সঠিক নয়। তবে এ কথা সত্যি যে, গল্প সম্পর্কে পরিচিত অভ্যাস, গল্পপাঠের পরিচিত আয়োজন ব্যাহত হয়েছে বারবার। কখনো এমন…

পড়ুন

প্রাবন্ধিক অনু হোসেন শিল্পসাহিত্যের বিশেষ করে কবিতাবিষয়ে অত্যন্ত দরকারি একটা গ্রন্থ রচনা করেছেন, এর নাম ‘শিল্পের চতুষ্কোণ’। এতে নানান মতবাদ, কাজের ধারা, কাব্যবৈশিষ্ঠ্য, কবি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ গ্রন্থের অত্যন্ত দরকারী একটি প্রবন্ধ হচ্ছে ইয়ংয়ের দৃষ্টিতে শিল্পীর মনোজগৎ। এখানে শিল্পীসত্তাকে নির্ণয়ের এক ধরন প্রত্যক্ষ করা যায়। ব্যক্তিসত্তা থেকে যৌথঅবচেতনবাহী মানবমনের নানাবিধ বৈশিষ্ঠ্য তিনি দেখিয়েছেন, যেখানে শিল্পীর মৌলিক কাজ আর তার স্বাধীনতা প্রকাশ পাবে। ফ্রয়েডের ব্যক্তি-অভিজ্ঞানের বদলে তিনি যৌথ-অভিজ্ঞানকে বড়ো করে দেখাতে চান। মনঃস্থিত বৈকল্যের স্থলে শিল্পীর প্রথাহীন স্বাতন্ত্র্য, সৃষ্টিক্ষমপ্রজ্ঞা, অভিনবত্বের অন্তর্বয়নের উপর জোর দিলেন। তিনি মূলত শিল্পগুণে অদ্ভুতময়তার কথা শোনান। ব্যক্তিকে তিনি সামষ্টিক ব্যক্তিসত্তা হিসাবে দেখাতে প্রয়াস পেয়েছেন। এই…

পড়ুন

অষ্টনাগ ষোলচিতি কথাশিল্পী হাবিব আনিসুর রহমানের দ্বিতীয় গল্পগ্রন্থ। এতে বারোটি গল্প আছে – নেফারতিতি, বেহুলা লখিন্দরের গদ্য, প্রত্যাখ্যানের গল্প, দিন ও রাতের গদ্য, নিষাদ বালকের গল্প, জানালা, আমাদের নতিপোতা গ্রামের ইতিহাস, সংসার উপাখ্যান, মুগদাপাড়ার মেয়েটি, শাদা অন্ধকারের পদ্য, অজস্র গভীর রঙ পালকের ’পর আর শেষ গল্পটি হচ্ছে অষ্টনাগ ষোলচিতি। ‘অষ্টনাগ ষোলচিতি’কে প্রথমে মনে হতে পারে এ এমন এক বাড়ির গল্প যেখানে কথকের বাবা শেখ আফসার উদ্দীন চব্বিশ বছর আগে তার চাকরিতে রিটায়ার করে এই নারকেল সুপারি আম জাম গাছের মাঝে বি¯তৃৃত এক বাড়িতে সপরিবারে থাকেন। এখানে এক যন্ত্রণার বিষয়ও আছে, তাঁর বড়ো ছেলেটি মুক্তিযুদ্ধে মারা গেছে, কবরও আছে বাড়িটাতেই। বাবা…

পড়ুন

‘পুনর্বাসন : একটি সাংস্কৃতিক রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম’ সরকার আশরাফের প্রথম গল্পগ্রন্থ। এতে গল্প আছে ছ’টি। তিনি লিটল ম্যাগাজিনেরই গল্পকার।খুব বেশি গল্প তিনি লেখেননি তবে তার কথাটিকে তার মতো করেই বলার প্রবণতা প্রবল। তার গল্প যেমন একটি গল্প থাকে তেমনি থাকে ম্যাজেসটি পৌঁছে দেয়ার মানসিক তাগিদ। তার গল্পের বড়ো দিক হচ্ছে সমাজবাস্তবতা। প্রথম গল্প পুনর্বাসন : একটি রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম গল্পটি বেশ্যাদের উচ্ছেদ, পুনর্বাসের রাষ্ট্রীয় তাগিদ, একধরনের হেয়ালীপনার এক চিত্র আছে এখানে। গল্পটির বহুমাত্রিকতার বিষয়টিও ভালোই; কিন্তু অত বেশি বিষয় এতে যুক্ত হয়েছে যাতে ডিটেইল আরও বিস্তৃতি দাবি করে। ‘পুনর্বাসন : একটি রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম’ এটি তো নারায়ণগঞ্জের টানবাজার নিয়েই লেখা? এ…

পড়ুন

৬১৯ পৃষ্ঠার অপরাধ ও শাস্তি যথন পড়তে মনস্থ করি, তখনও বারবার মনে হয়েছিল, এত কথা, এত কথার প্যাঁচ, এত ন্যারেশন, এই সময়ে, কথাসাহিতের এই জাদুময়তা, এই সাঙ্কেতিকতার যুগে পড়ব কী করে? তবু পড়তে চাই, ফিউদর দস্তয়ভস্কি (১৮২১-১৮৮১) এই উপন্যাসটির কথা এতবার শুনেছি, শুনতে শুনতেই এর প্রতি তীব্র মোহে পড়ে যাই। মনে মনে অনেকদিন খুঁজেছিও। এখন তো মস্কোর প্রগতি বা রাদুগা নেই, সেই জৌলুশ নেই, নেই প্রচারণা। মাঝে মাঝে ফুটপাতের বইয়ের দোকানে রাশান সাহিত্য দেখি। তবে আর তা দেখারও ইচ্ছা হয় না; কেবলই সেইসব দিনের কথা মনে হয়, সেইসব পাঠের কী যে উন্মাদনা ছিল একসময়। গ্রন্থটি হঠাৎই আমার নজরে আসে। কলকাতা…

পড়ুন